Home>সকল সংবাদ>প্রতিবেদন>মুসলিম বিদ্বেষী ভারত>> মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন

মুসলিম বিদ্বেষী ভারত>> মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন

ভারত চরম মুসলিম বিদ্বেষী হিন্দুত্ববাদী দেশ এবং ভারতের রাজনীতিক, বুদ্ধিজীবী, শিল্পী, নট-নটী,  এমনকি বিচারপতিরাও যে সাম্প্রদায়িক তা তারা বিভিন্নভাবে বারবার দেখিয়েছেন। সবচেয়ে বিস্ময়ের ব্যাপার হলো ভারতের বিচারপতিরা সাধারণ হিন্দুদের চেয়েও যে অনেক বেশি মুসলিম-বিদ্বেষী এবং কট্টর সাম্প্রদায়িক ভাবধারায়দুষ্ট্ ুতাও তারা গোপন রাখেন নি।
ভারতে আপনি কাকে অসম্পদায়িক কিংবা ধর্মনিরপেক্ষ বলবেন। আমাদের দেশের অনেকেই কংগ্রেসের লেজ ধরে ক্ষমতায় এসেছিলেন। কারণ তাদের ভাষায় কংগ্রেস নাকি ধর্মনিরপেক্ষ ও অসাম্প্রদায়িক। কিন্তু বাস্তবে তা নয়। ধর্মনিরপেক্ষতার ধ্বজাধারী কংগ্রেস কিংবা তথাকথিত কমিউনিস্ট পার্টি এবং এ দুটোর মাঝে থাকা অন্যান্য সবাই মুসলিম অধিকার ও স্বার্থের বিপক্ষে এক ও অভিন্ন  – মুসলিম বিরোধী-বিদ্বেষী। মুসলমানরা যুগযুগ ধরে কংগ্রেসের ভোট-ব্যাংক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছেন। অথচ কংগ্রেস আমলেই মুসলমানরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হন। বিজেপি, আর এস এস, শিবসেনা, বজরং দল কিংবা তাদের অনুসারী অন্যান্য দল-উপদল ঘোষিত ও চিহ্নিত সাম্প্রদায়িক। তারা অন্তত কংগ্রেসের মতো বর্ণচোর নয়। কংগ্রেস মুখে তথাকথিত ধর্মনিরপেক্ষ, বাস্তবে বিজেপি-আর এস এস’এর সহোদর।
মুসলমানদেরকে কীভাবে ঠকানো যায়, কীভাবে মুসলিম শাসিত কিংবা মুসলিম অধ্যুষিত জনপদ  ও অঞ্চল দখল করা যায় তা-ই ছিল ব্রিটিশমুক্ত উপমহাদেশে কংগ্রেসের প্রধান দুষ্কর্ম। পাকিস্তানের সাথে যোগ দিতে পারে এই অজুহাতে মুসলিম শাসিত অথচ হিন্দু সংখ্যাগুরু জুনাগড়, মানভাদর, কচ্ছ, ভুপাল, এমনকি জাতিসংঘের সদস্য স্বাধীন-সার্বভৌম হায়দারাবাদ শক্তি প্রয়োগ করে নেহেরু সরকার দখল করে। ভারতের যুক্তি ছিল এইসব স্বাধীন দেশীয় রাজ্যের শাসক মুসলিম হলেও সংখ্যাগুরু অধিবাসী হিন্দু। সুতরাং ওইসব দেশীয় রাজ্য ভারতের অংশ।
১৯৪৮ সালের ৬ ডিসেম্বর শুরু হওয়া এই দখল অভিযানে প্যাটেল বাহিনী হায়দারাবাদে অবর্ণনীয় নারকীয়তা চালায়। মুসলমানদের নির্বিচারে খুন, তাদের বাসগৃহ ও দোকানপাট লুট করে জ্বালিয়ে দেয়া হয়। তৎকালীন বাইরের দুনিয়া এমন গণহত্যা এবং ক্ষয়-ক্ষতির  সামান্য খোঁজই পেয়েছিলেন। গণহত্যাসহ অন্যান্য জঘন্য অপকর্মের মাত্রা এমন চরমে উঠে যে, তথাকথিত গণতন্ত্রের পুজারী বক্ধার্মিক নেহেরু বাধ্য হয়ে কংগ্রেস নেতা পন্ডিত সুরেন্দ্রলালের নেতৃত্বে হায়দারাবাদের গণহত্যা তদন্ত কমিটি পাঠান।
তদন্ত প্রতিবেদনে এমন লোমহর্ষক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে যে, ওই প্রতিবেদন আজ পর্যন্ত জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয় নি। তবে ঐতিহাসিক সুনীল পুরুষোত্তম তার গবেষণা কাজের অজুহাতে ওই প্রতিবেদনের টাইপকরা একটি কপি সংগ্রহ করতে সক্ষম হন। তারপরেও ওই প্রতিবেদনের পূর্ণাঙ্গ বিবরণ জনসাধারণ্যে আসে নি।
ওই প্রতিবেদনে বলা হয়: বহু জায়গায় সশস্ত্র হিন্দু বাহিনী মুসলিম পুরুষদেরকে ঘর থেকে বের করে এনে হত্যা করে। চলে অবাধ ধর্ষণ লুট অগ্নিসংযোগ। এতে ভারতীয় সৈন্যরা স্থানীয় হিন্দুদেরকে মুসলমানদের ঘরবাড়ি লুট ও অগ্নিসংযোগে এবং মহিলাদেরকে ধর্ষণে প্ররোচিত করে। প্রতিবেদনে বলা হয় ওই দখল অভিযানে ২৭ থেকে ৪০ হাজার মুসলিম নিহত হয়েছেন।
হিন্দু-মুসলিম নির্বিশেষে জনগণের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় তৎকালীন নিজামের অপরাধ তিনি মুসলিম ছিলেন এবং তিনি তার দেশকে ভারতের অঙ্গীভূত করতে চান নি। তিনি পাকিস্তানে যোগ দিতে চাচ্ছেন, এমন মিথ্যা অভিযোগে নেহেরু-প্যাটেলগং হায়দারাবাদ দখল করে।
হিন্দু সংখ্যা গরিষ্ঠতার অজুহাতে হায়দরাবাদ দখল করলেও এর আগে মুসলিম অধ্যুষিত কিন্তু হিন্দুশাসিত কাশ্মীর দখল করতে নেহেরু সামান্য  লজ্জাবোধ করে নি। হিন্দুরাজা হরি সিং শাসিত স্বাধীন জম্মু-কাশ্মীরের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৫ শতাংশই ছিল মুসলিম। হরি সিং ভারতে যোগ দিয়েছেন, এমন অজুহাতে ১৯৪৭ সালের ২২ নভেম্বর কংগ্রেসী নেহেরু-প্যাটেল বাহিনী কাশ্মীর দখল করে। গত ৭২ বছর ধরে কাশ্মীরে যে আগুন জ্বলছে তা কংগ্রেসেরই জবর দখলের ফল। কংগ্রেসের মুসলিমবিরোধী জঘন্যতার শত শত নজির রয়েছে। কংগ্রেসের দীর্ঘকাল ভারত শাসনের সময় মুসলিমবিরোধী  কতোহাজার দাঙ্গা হয়েছে এবং ওই সব দাঙ্গায় কতোলাখ মুসলিম জীবন হারিয়েছেন তার পরিসংখ্যান কেউই জানে না।
বাবরি মসজিদের জায়গায় রামমন্দির নির্মাণের যে রায় ভারতীয় সুপ্রীম কোর্ট ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর দিয়েছে তাও মূলত কংগ্রেসের মুসলিম বিদ্বেষী দুষ্কর্মের ফল । ১৯৯২ সালে বাবরি মসজিদ ভাঙ্গার সময় কংগ্রেসই ক্ষমতায় ছিল। হিন্দু সন্ত্রাসীরা ঘোষণা দিয়েই এই মসজিদ ভাঙ্গে । অথচ কংগ্রেস সরকার নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। কংগ্রেস মসজিদ রক্ষায় সামান্যতম ভূমিকাও রাখেনি।
সর্বশেষ সুপ্রীম কোর্টের অন্যায় রায়কে কংগ্রেস সবার আগে সমর্থন জানায় । কংগ্রেসের সাবেক সভাপতি রাহুল গান্ধী সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। এরপরেই কংগ্রেস ওয়াকিং কমিটি বৈঠক করে এই রায়কে সর্বতোভাবে স্বাগত জানিয়ে প্রস্তাব গ্রহণ করে। প্রস্তাবে কংগ্রেস আরো খোলাসা করে বলেছে, ‘অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান করি। আমাদের সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত ধর্মনিরপেক্ষ (যা বাস্তবে মোটেই নেই) মূল্যবোধ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা মেনে চলতে সব সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানাই।’ দলটির মুখপাত্র রণদীপ সূর্যওয়ালা বলেছেন, ‘যুগে যুগে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য আমাদের সমাজকে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে, তা পুনরায় নিশ্চিত করার দায়িত্ব আমাদের প্রত্যেকের।’জানতে ইচ্ছা করে এটা কেমন ‘ধর্মনিরপেক্ষ মূল্যবোধ ও ভ্রাতৃত্বের চেতনা’ কিংবা ‘পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও ঐক্য’ । মুসলমানদেরকে কিল খেয়ে কিল হজমের ছবক দিয়েছে কংগ্রেস, যা নিঃসন্দেহে বেদনাদায়ক।আসলে কংগ্রেস, বিজেপি, আরএসএস, হিন্দু মহাসভা, বজরংদল, শিবসেনা, কমিউনিস্ট পার্টিসহ অসংখ্য দল-উপদল সবাই মুসলিম প্রশ্নে একই গুরুর শিষ্য। হাতেগণা দুই-একজন বাদ দিলে চূড়ান্ত পর্যায়ে সব হিন্দুই সাম্প্রদায়িক মুসলিম বিদ্বেষী। অথচ এদের পুজার করার মতো মুসলমানের অভাব বাংলাদেশেও নেই।আর ভারতের বিচার ব্যবস্থা? গোয়েন্দা সংস্থা?  আমলা বাহিনী? কেউই হিন্দুবাদীত্বের বাইরে নয়। বিচার বিভাগ নিরপেক্ষ হলে কোন বিবেচনাতেই বাবরি মসজিদ রামের জন্মস্থান হতে পারে না। তবে এই ক্ষেত্রে সাবেক বিচারপতি অশোক কুমার গঙ্গোপাধ্যায় নিঃসন্দেহে  অনন্য ও ব্যতিক্রম। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, ’৯২ সালে মসজিদ ভাঙা যদি বেআইনী ও অবৈধ হয়ে থাকে, তা’হলে সেখানে রামমন্দির গড়ার রায় কীভাবে কোন বিবেচনায় দেয়া হয়েছে। মসজিদ ভাঙার বেআইনী কাজে অংশ নেয়ার অভিযোগে কাউকে শাস্তি না দিয়ে সুপ্রীমকোর্ট স্ববিরোধী ভূমিকার অভিযোগে অভিযুক্ত। মসজিদ ভাঙা যদি বেআইনী অপরাধ হয়ে থাকে তা’হলে সুপ্রীমকোর্ট সেই মসজিদ ওই স্থানে পুনঃনির্মাণের নির্দেশ না দিয়ে মন্দির নির্মাণের নির্দেশ দিয়ে যুক্তিসংগতভাবেই অবিচার করেছে।অশোক কুমরার গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রশ্ন: “রামচন্দ্র আদৌ ছিলেন কি না, কোথায় জন্মেছিলেন, সে সবের কোনও প্রামাণ্য নথি কি রয়েছে? নেই। রাম শুধু মহাকাব্যে রয়েছেন। সেই সূত্রে অনেক মানুষের মনে একটা বিশ্বাসও রয়েছে। কিন্তু সেই বিশ্বাসের বলে একটা মসজিদের জমি মন্দিরের নামে হয়ে যেতে পারে না। কালকে যদি আমি বলি, আপনার বাড়ির নীচে আমার একটা বাড়ি রয়েছে, এটা আমার বিশ্বাস, তা হলে কি আপনার বাড়িটা ভেঙে জমিটা আমাকে দিয়ে দেওয়া হবে?”“চারশো-পাঁচশো বছর ধরে একটা মসজিদ একটা জায়গায় দাঁড়িয়েছিল। সেই মসজিদকে আজ থেকে ২৭ বছর আগে ভেঙে দেওয়া হল বর্বরদের মতো আক্রমণ চালিয়ে। আর আজ দেশের সর্বোচ্চ আদালত বলল, ওখানে এ বার মন্দির হবে।”সাবেক এই বিচারপতির মন্তব্য: “আদালত সিদ্ধান্তে পৌঁছয় অকাট্য প্রমাণ এবং প্রামাণ্য নথিপত্রের ভিত্তিতে। বাবরি মসজিদ যেখানে ছিল, সেই জমিতে মন্দির তৈরির নির্দেশ সুপ্রিম কোর্ট কোন অকাট্য প্রমাণ ও প্রামাণ্য নথির ভিত্তিতে দিল, সেটা বুঝতে আমার অসুবিধা হয়েছে। বাবরি মসজিদ যে ওখানে ছিল, পাঁচ শতাব্দী ধরে ছিল, সে আমরা সবাই জানি। বাবরি মসজিদ যে গুন্ডামি করে ভেঙে দেওয়া হল, সেটাও আমরা দেখেছি। এমনকি সুপ্রিম কোর্ট এ দিনের রায়েও মেনে নিয়েছে যে, অন্যায় ভাবে মসজিদটা ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু ১৫২৮ সালের আগে ওখানে রাম মন্দির ছিল কি না, আমরা কেউ কি নিশ্চিত ভাবে জানি? রাম মন্দির ভেঙেই বাবরি মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল, এমন কোনও অকাট্য প্রমাণ কি কেউ দাখিল করতে পেরেছিলেন? পারেননি। তা সত্ত্বেও যে নির্দেশটা শীর্ষ আদালত থেকে এল, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকা স্বাভাবিক নয় কি?
(আনন্দবাজার পত্রিকা, ৯ নভেম্বও, ২০১৯)
 
অশোককুমার গঙ্গোপাধ্যায় ছাড়া অন্যকোন হিন্দু সুপ্রীমকোর্টের এমন অবিচারমূলক রায়ের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেন নি। তবে গান্ধীর নাতির ছেলে তুষার গান্ধী রায়ের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন টুইটারে। তিনি লিখেছেন: আজকের দিনে গান্ধী হত্যার বিচার হলে, খুনি নাথুরাম গডসেকেও দেশভক্ত বলে উল্লেখ করত সুপ্রিম কোর্ট। অন্যদিকে সুপ্রীমকোর্ট মুসলমানদেরকে ‘গরু মেরে জুতা দান করেছে’। বাবরী মসজিদের জায়গায় মন্দির তৈরি নির্দেশ দিয়ে মুসলমানদেরকে অন্যত্র মসজিদ নির্মাণের জন্য পাঁচ একর জমি দিয়েছে। এই দয়াকে আমি চরম অপমানজনক  ও নির্মম কৌতুক বলে মনে করি, যা মুসলমানদের হৃদয়ে তীরের মতো বিঁধেছে। সুপ্রীমকোর্টের এই ভিক্ষা (জমি) ভারতীয় মুসলমানদেরকে ঘৃণার সাথে প্রত্যাখান করার আহ্বান জানাচ্ছি। আগেই বলেছি ভারতীয় বিচারকও কট্টর সাম্প্রদায়িক ও মুসলিম বিদ্বেষী। সব শ্রেণী-পেশার মুখোসধারী ভারতীয়দের ভূমিকা, সর্বোপরি বাবরী মসজিদ সম্পর্কিত অন্যায় রায় এবং এই রায়ের প্রতি কংগ্রেসের মতো মুখোশধারী সাম্প্রদায়িক দলের সমর্থন ভারতসহ সারা বিশ্বের বিবেকবান মানুষকে আহত করেছে। এই রায় সম্পূর্ণরূপে সাম্প্রদায়িক এবং রাজনৈতিক বিদ্বেষপ্রসূত। এতে আরো প্রমাণিত হলো ভারতীয় বিচারকরা একদিকে সাম্প্রদায়িকতাদোষে দুষ্টু, অন্যদিকে তারা ক্ষমতাসীন দলের চাওয়া-পাওয়ার কাছে বন্দী। বিজেপি-আরএসএস কী চায়, মোদিরা কী চায় তার নিরীখেই এই রায় দেয়া হয়েছে। এটা সম্পূর্ণরূপে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক রায়, চাপিয়ে দেয়া রায়। মুসলমানদের অস্তিত্ব ও স্বার্থবিরোধী কোন অপরাধই ভারতে জায়েজ –  অপরাধ নয়।
সুপ্রীমকোর্টের এমন অপরায়  নতুন নয়। ২০০২  সালে গুজরাটে দুইহাজার মুসলমানকে হত্যার জন্য সরাসরি খুনী মোদি দায়ী। সারা পৃথিবীর মানুষ এই ব্যাপারে নিশ্চিত। অনলাইনে তাকে আধুনিক কালের একনম্বর খুনী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। যুক্তরাষ্ট্র খুনি মোদিকে খুনের অপরাধে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ভিসা বারবার নাকচ করেছে। অথচ ভারতীয় সুপ্রীমকোর্ট মোদিকে খুনের দায় হতে বেকসুর খালাস দিয়েছে। সবচেয়ে জঘন্য দিক হলো কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট ক্ষমতায় আসার পর ওই দাঙ্গার খুনীদের বিচার করতে অস্বীকার করে। এই হলো কংগ্রেস। এই হলো ভারত এবং তার সাম্প্রদায়িক বিচার ব্যবস্থা।
গুজরাটে মুসলিমবিরোধী দাঙ্গার মামলার রায়ে মোদির খালাস এবং বাবরী মসজিদবিরোধী রায় একই সূত্রে গাঁথা। শুধু বিচারকদের পরিবর্তন। আদালত একই। অন্যদিকে এই রায়ের পক্ষে হিন্দুদের ঢালাও সমর্থন প্রমাণ করেছে ভারতে মুসলমানদের পক্ষে চূড়ান্ত পর্যায়ে কেউই নেই – আদালতও নয়, রাজনীতিকরা তো নয়ই। মুসলমানরা বড়ই অসহায়।মুসলমানদের অসহায়ত্বের প্রতি ইঙ্গিত করে সৈয়দা হামিদ নাম্মী জনৈক ভারতীয় মুসলিম লেখিকা এবং মুসলিম ওমেন্স ফোরাম’এরও প্রেসিডেন্ট হিন্দুস্তান টাইম্স’এ লিখেছেন: “আমাদের কোনো ক্ষমতা নেই, কোনো এজেন্সি নেই, বিক্ষোভের কোনো জায়গা অবশিষ্ট নেই। যারা এই ক্ষমতাকেন্দ্রের প্রতিবাদ করতে চায় তাদের জন্য সমস্ত কিছু মিইয়ে যাচ্ছে হাওয়ায়। আমি চাই না রাজপথে নির্দোষদের প্রাণহানি হোক, রক্ত ঝরুক।”
বাবরী মসজিদবিরোধী এই রায় এবং রায়ের পক্ষে হিন্দুদের একট্টা হওয়াকে আমি মুসলমানদের জন্য চরম শিক্ষা বলে মনে করি। আল্লাহ ছাড়া তাদের কেউই নেই, এমন বিশ্বাস নিয়ে তাদেরকে সামনের দিকে যেতে হবে। তাদেরকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্বার্থগত কারণে কোন কোন মুসলমানকে বিজেপি,  কংগ্রেস, কমিউনিস্ট পার্টিসমূহে দেখা যায়। এই প্রবণতা বন্ধ হওয়া উচিত। যতো ছোট হোক তাদের নিজস্ব দল থাকা দরকার। ওই দলেই সবাই এক হউন। ক্ষমতা কিংবা স্বার্থ প্রাপ্তি নয়, জাতির অস্তিত্বকে বাঁচান। *
রচনাকাল: ১১ নভেম্বর, ২০১৯