Home>সকল সংবাদ>প্রবাসী>আমেরিকা>শমশের মবিন চৌধুরী; চিহ্নিত দালাল থেকে একজন প্রমানিত বেঈমান!
আমেরিকা জাতীয় তাজা প্রবাসী

শমশের মবিন চৌধুরী; চিহ্নিত দালাল থেকে একজন প্রমানিত বেঈমান!

নিউইয়র্ক থেকেঃ আজ ২৬শে অক্টোবর-২০১৮ আচমকা বিকল্পধারায় যোগ দিয়েছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অত্যন্ত বিশ্বস্তজন হিসাবে পরিচিত মুক্তিযোদ্ধা শমশের মবিন চৌধুরী। সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সাথে একত্রে মুক্তিযুদ্ধ করেছেন এমনকি মেজর মান্নানের নেতৃত্বে পাকিস্তানি বাহিনীর হাতে আহত হয়েছিলেন তিনি। অথচ আজ সেই মেজর মান্নানের হাতেই তাঁর দল বিকল্প ধারায় যোগ দিলেন!

১/১১ পরবর্তী রাজনীতিতে কোন এক গায়েবী ইশারায় এই শমশের মবিন চৌধুরীকে করা হয়েছিল বিএনপির সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর ব্যক্তি! কারো কথার পরোয়া তিনি করতেন না, দলীয় সকল গুরুত্বপুর্ন তথ্য নির্দিষ্ট একটি ভিনদেশীয় গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দিতেন। অনেক লেখালেখি করেও কোন কাজ হয়নি। ২০০৬্সালের প্রথম থেকে বিএনপির বিরুদ্ধে যখন আন্তর্জাতিক ষরযন্ত্র বাসা বাধছিল তখন তিনি ছিলেন আমেরিকায় বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত।
মঈন-ফকরুদ্দিনকে ক্ষমতায় বসিয়ে ভবিষ্যত বিএনপিকে ধংস করে দেয়ার আন্তর্জাতিক চক্রান্তের অন্যতম ব্যক্তি ছিলেন তিনি। মঈন-ফকরুদ্দিন ক্ষমতা দখলের নেয়ার পরে সকল সেক্টরে বিএনপি পন্থীদের তাড়িয়ে দেয়া হয়েছিল। তাদের অনেকেই বিনা বিচারে জেল খেটেছেন কিন্তু একমাত্র শমশের মবিন চৌধুরী মঈন -ফকরুদ্দিনের আমলেও বহাল তবিয়তে ওয়াশিংটনে বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত হিসাবে নিযুক্ত ছিলেন। যদি তিনি মঈন-ফকরুদ্দিন গংদের সহযোগী হিসাবে কাজ না করতেন তাহলে কিভাবে তাঁকে এতবড় গুরুত্বপুর্ন পদে বসিয়ে রেখেছিলেন জেনারেল মঈন ও সরকার প্রধান ফকরুদ্দিন?

২০০৮ সাল থেকে কোন এক গায়েবী ইশারায় দেশনেত্রীর পাশে দেয়া হল শমশের মবিন চৌধুরী আর শিমুল বিশ্বাস নামক আরেকজন সহচর! দলীয় যেকোন সিদ্ধান্ত গ্রহনের সাথে সাথেই চলে যেত গোয়ান্দা সংস্থার হাতে। এমনকি দেশনেত্রী বেগম জিয়া কি দিয়ে রাতের খাবার খাবেন সেকথাও জানতো গোয়েন্দা সংস্থা! এসকল কিছুই সম্ভব হয়েছিল শিমুল বিশ্বাস ও শমসের মবিনের বদৌলতে!

তখনকার সময়ে কাউকেই বিশ্বাস করানো যায়নি দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার এত বিশ্বস্ত ব্যক্তি শমশের মবিন চৌধুরী বিএনপি ধংসের জঘন্য চক্রান্তে জরিত! বিকল্প ধারায় যোগ দেয়ার মধ্য দিয়ে তিনি তা নিজেই প্রমান করে দিলেন!

শমসের মবিন ২০১৫ সালর ২৯ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়াকে চিঠি দিয়ে বিএনপি ছাড়েন। বলেন, আর রাজনীতি করবেন না। এরপর তিন বছর রাজনীতি থেকে দূরেই ছিলেন তিনি।

একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে তিনি কোন দলের রাজনীতি করবেন সেটা তাঁর একান্তই ব্যক্তিগত ব্যাপার কিন্তু প্রশ্নটা হল একটি দলের সর্বোচ্চ সুযোগ সুবিধা গ্রহন করে রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপুর্ন দায়ীত্ব পালনের ফাঁকে নিজ দলকে ধংস করার পরিকল্পনাকারীকে জাতীয় বেঈমান উপাধী দেয়া ছাড়া সাধারন মানুষের মনে আর কোন প্রশ্ন থাকতে পারে কি?

শমশের মবিন চৌধুরী বাংলাদেশী রাষ্ট্রদূত হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা কালীন সময়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের থেকে উপঠৌকন হিসাবে বিভিন্ন সময়ে সুযোগ সুবিধা নিতে চাইতেন। তখনকার যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সভাপতি ছিলেন রাজনৈতিক এক সিংহ পুরুষ আব্দুল লতিফ সম্রাট। তিনি কখনই শমশের মবিন চৌধুরীকে পাত্তা দিতেন না। কখনো তাঁর সাথে কোন আবদার নিয়ে দেখা করতেও জাননি! শুধু আব্দুল লতিফ সম্রাট নন আরো বেশ কিছু নেতা রয়েছেন যারা শমশের মবিনের চারিত্রিক দুর্বলতার কারনে কখনোই পাত্তা দিতেন না। ১/১১ পরবর্তী রাজনীতিতে সারা বাংলাদেশ যখন রাজনীতিতে স্তিমিতি হয়ে ছিল ঠিক তখনই যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতৃত্বে বিশ্বব্যাপী প্রবাসী বিএনপি কতৃক ব্যাপক আন্দোলন গড়ে ওঠে। শমশের মবিন তখন বিএনপি নেতৃবৃন্দকে ডেকে আন্দোলন থামাতে বলেছিলেন নইলে এর মাশুল দিতে হবে বলেও হুমকি দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে শমশের মবিনের কথাই সত্যি হয়েছিল! তাঁরই ষরযন্ত্রে ২০১১ সালে কোন আনুষ্ঠানিকতা ছাড়াই একটি গায়েবী চিঠির মাধ্যমে ভেঙ্গে দেয়া হয় যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি কমিটি।

২০১১ সালের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার যুক্তরাষ্ট্র সফরে তিনি সফর সঙ্গী হয়ে এসেছিলেন। প্রথমেই দলীয় কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে তিনি চেয়েছিলেন বেগম জিয়ার সংবর্ধনা অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করতে কিন্তু সদ্য ভেঙ্গে দেয়া কমিটির সভাপতি আব্দুল লতিফ সম্রাটের বিচক্ষন্তায় শমশের মবিনের সেই স্বপ্ন সফল হয়নি! বেগম জিয়ার এই সফরে শমশের মবিন চৌধুরী স্থানীয় কোন নেতাকর্মিকে নেত্রীর সাথে দেখা করতে দেননি। এটা ছিল তাঁরই একান্ত চক্রান্ত!

এরপরে নিউজার্সি ষ্টেট সিনেট স্পিকারের আমন্ত্রনে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে ব্যাপক সংবর্ধনার আয়োজন করা হলে সেটাও যেন করা না হয় সেব্যাপারে হাই কমান্ডকে বিব্রতকর অবস্থায় ফেলার চেষ্টা করেছিলেন। অবশেষে লন্ডন থেকে তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে বিষয়টি সুরহা করা হয়েছিল।

নিউজার্সি ষ্টেট সিনেটে সর্বসম্মতিক্রমে রেজুলুশন পাসের মাধ্যমে দেশনেত্রী বেগম জিয়াকে “বাংলাদেশী গনতন্ত্রের মাতা” উপাধী দিয়ে ব্যাপক সংবর্ধনা দিয়েছেলেন।

এরপরে দেশনেত্রী বেগম জিয়া ওয়াশিংটন সফর শেষে নিউইয়র্কে যাত্রা বিরতি করে বাংলাদেশে ফিরে যান। যাত্রা বিরতিকালে ম্যানহাটানের সনামধন্য “ওয়াল্ডর্ফ এষ্টোরিয়া” হোটেলে অবস্থান করেন এবং সেখানে তিনি স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করতে চাইলে শমশের মবিন চৌধুরী ‘নকিয়া কম্পানীর প্রোগ্রামার’ পরিচয় দিয়ে জনৈক ব্যক্তিকে পাশের রুমে সকল যন্ত্রপাতি সেট আপ করিয়ে নেতাকর্মীদের কথোপকথন রেকর্ড করেন এবং গোয়েন্দা সংস্থার হাতে তুলে দেন। শমশের মবিন এতটাই তীক্ষ্ণতার সাথে দলের সাথে বেঈমানী করেছেন যেটা খুব কাছের মানুষ ছাড়া বোঝা সম্ভব নয়।

শুধু যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি ধংস করার প্রায়াস নয় তিনি
বাংলাদেশের কোন জেলার পুর্নাংগ কমিটি পাশ হতে দিতেন না। কোন না কোন উছিলা দিয়ে কমিটি আটকে দিয়ে দলকে দুর্বল করে রাখার ষরযন্ত্র করতেন। তিনি চলে যাওয়ার পরেই জনাব তারেক রহমানের হস্তক্ষেপে সকল জেলায় দলীয় কমিটিগুলীকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়া হয়।
আমাদের দেখা চোখেই দেখে নিলাম শমশের মবিন চৌধুরীর ষরযন্ত্রে কিভাবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপি সহ জাতীয়ভাবে কিভাবে বিএনপিকে ধংস করা হয়েছে!

সেই সময়ে শমশের মবিনের বেশ কিছু কৃতকলাপ নিজেদের চোখে দেখেছিলাম কিন্তু তিনি এতটাই ক্ষমতাধর ছিলেন যে বিএনপিতে সত্য কথা বলেও কাউকে বিশ্বাস করাতে পারিনি।

দলের সর্বস্ব ধংস করার দাঢ় প্রান্তে এসে শমশের মবিনের মিশন শেষ করে গত ২০১৫ সালর ২৯ অক্টোবর বেগম খালেদা জিয়াকে চিঠি দিয়ে বিএনপি ছাড়েন শমশের মবিন। বলেন, আর রাজনীতি করবেন না। এরপর তিন বছর রাজনীতি থেকে দূরে ছিলেন, তামাশা দেখেছেন। এখন বিকল্প ধারায় যোগ দিয়ে নিজেকে খুব বিজ্ঞ রাজনীতিবীদ হিসাবে প্রমান করতে চাইছেন!

শমশের মবিনের মনে রাখা উচিত জাতি যাকে একবার বেঈমান হিসাবে চিনে রাখে তাঁকে কখনই আর আপন হতে দেয় না। বেঈমান সর্বদাই বেঈমান!