Home>সকল সংবাদ>প্রবাসী>এশিয়া>ভারত>বিধানসভাতে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে বিল পাশ
ভারত

বিধানসভাতে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় গড়তে বিল পাশ

সংবাদাতা, মঙ্গলবার, ৩১ জুলাই, ২০১৮: বিধানসভাতে মুর্শিদাবাদে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করতে বিল পাশ করল বাংলার সরকার। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে কুর্নিশ জানিয়েছন ফারুক আহমেদ।
দীর্ঘদিন পর মুর্শিদাবাদ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করার জন্য আজ বিধানসভাতে বিল পাশ করল রাজ্যসরকার। মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও উচ্চ শিক্ষামন্ত্রী ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার আন্দোলনকারীদের মধ্যে অন্যতম কান্ডারী ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার সম্পাদক ফারুক আহমেদের।

দক্ষিন দিনাজপুর, আলিপুরদুয়ার, মুর্শিদাবাদ ও দার্জিলিং-এ আরো চারটে নতুন বিশ্ববিদ্যালয় চালু করতে বিধানসভায় আজ এই বিল পাশ হয়ে গেল। জানিয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী ড. পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মার্চ মাসে বাজেট বক্তব্যে তিনি জানিয়েছিলেন কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ্যতা অনুযায়ী শিক্ষাকর্মী নিয়োগ করা হবে। শিক্ষা ও গবেষণার গূণগত মান ও উচ্চশিক্ষার উৎকর্ষ স্থাপনে সরকার বদ্ধপরিকর। প্রায় এক দশকের দাবীকে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছিল এই ঘোষণার মধ্য দিয়ে। পিছিয়ে থাকা মানুষদের যোগ্য করে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়– মহাত্মা গান্ধীও এই ধারণা পোষন করতেন। অনগ্রসর, অবহেলিত, প্রান্তিক, সংখ্যালঘু মানুষদের অগ্রগতিতে এই কারণেই নিতে হয় কিছু প্রকল্প, পরিকল্পনা ও পদক্ষেপ। এবং তা রূপ দিতে হয় বাস্তবে। এই চারটি নতুন বিশ্ববিদ্যালয় তৈরী করতে বিধানসভায় বিল পাশ করে উন্নয়নের বাতাবরণে এক নতুন মাত্রা যোগ করল রাজ্যসরকার।
মুর্শিদাবাদ জেলা রাজ্যের সর্বাধিক মুসলিম প্রধান এলাকা। শিক্ষায় বহু বছর ধরে এই অঞ্চল অবহেলিত ছিল। নতুন সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসার পর উচ্চশিক্ষা প্রসারে নানা উন্নয়নমূলক কর্মসূচী নিয়েছে এ পর্যন্ত। মুর্শিদাবাদে আলীগড় বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি শাখা থাকলেও শিক্ষার প্রয়োজনের তুলনায় তা একেবারেই যথেষ্ট ছিল না। কিছু কলেজ, ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ থাকলেও কোন স্বয়ং সম্পূর্ণ বিশ্ববিদ্যালয় মুর্শিদাবাদে তৈরী হয়নি। সংখ্যালঘু উন্নয়নে সারা দেশ জুড়ে নানা রকম বাধার জন্যে তাঁদের উন্নয়ন থমকে ছিল। মৌলবাদী নানা সংগঠন অনগ্রসর উন্নয়নে নানা বাধা দিলেও আমাদের রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এর বিরুদ্ধে বরাবর সরব হয়েছেন। তিনি বরাবর অনগ্রসর শ্রেণির উন্নয়নের পক্ষে কাজ করে চলেছেন। দেশ জুড়ে বিরোধী জোট মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ২০১৯ সালে প্রধানমন্ত্রী করতে চাইছে। এটা বাঙালিদের গর্বিত করছে।
নভেম্বর ২৬, ২০১৫ শহীদ মিনার কলকাতায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল একটি বিশাল জনসভার। আয়োজন করেছিলেন সংখ্যালঘু উন্নয়ণকামী নেতা সিদ্দীকুল্লা চৌধুরী। ওই দিন আমন্ত্রিত প্রধান বক্তা ছিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমন্ত্রিত ছিলেন ফারুক আহমেদ। গ্রন্থ-প্রকাশক, সমাজসেবক, সহ অধিকর্তা, দূরশিক্ষা, কল্যাণী বিশ্ববিদ্যালয় তথা রিসার্চ জার্নাল ‘উদার আকাশ’-এর সম্পাদক ফারুক আহমেদ তাঁর মৌখিক ভাষণে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে মুর্শিদাবাদের জন্য একটি বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের জোরালো ও আন্তরিক দাবী জানিয়েছিলেন। ওইদিন তাঁর সম্পাদিত ‘উদার আকাশ’ পত্রিকার বিশেষ সংখ্যা “উদার ভারত নির্মাণে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ” সংখ্যাটি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এর হাতে তুলেও দিয়েছিলেন। সমসাময়িক বিভিন্ন দৈনিক সংবাদপত্রে তার উল্লেখ আছে।
এছাড়াও ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ ড. মধু মিত্র, ড. ইন্দ্রদীপ ঘোষ এবং ফারুক আহমেদ তাঁদের স্বাক্ষর সমন্বিত দাবী পেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী নিকট মুর্শিদাবাদ জেলায় বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপনের দাবীতে।