Home>সকল সংবাদ>প্রবাসী>আমেরিকা>বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন-২০১৮ মনোনয়নপত্র বিক্রি ১৯-২০ আগষ্ট ॥ চুড়ান্তের পথে প্যানেল গঠন
আমেরিকা প্রেস বিজ্ঞপ্তি

বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন-২০১৮ মনোনয়নপত্র বিক্রি ১৯-২০ আগষ্ট ॥ চুড়ান্তের পথে প্যানেল গঠন

নিউইয়র্ক (ইউএনএ): যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশীদের ‘আব্রেলা সংগঠন’ হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র দ্বি-বার্ষিক (২০১৯-২০২০) নির্বাচন আসন্ন। আগামী ২১ অক্টোবর এই নির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন ঘিরে চলছে নানা জল্পনা কল্পনা। আগামী ১৯ আগষ্ট রোববার থেকে শুরু হচ্ছে মনোনয়নপত্র বিক্রি। চলবে ২০ আগষ্ট সোমবারও। এদিকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী সম্ভাব্য প্যানেল গঠন চুড়ান্তের পথে। চলছে প্রার্থী বাছাই। আসন্ন নির্বাচনে ২/৩টি প্যানেল ছাড়াও আরো সভাপতি পদে আরো একজন স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গেছে। খবর ইউএনএ’র।
সোসাইটির নির্বাচন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এস এম জামাল ইউ আহমেদ জানান, ইতিমধ্যেই ইসি নির্বাচনী তফসিল ঘোষণা করেছে। আমরা ভোটার তালিকা হাতে পেয়েছি। নির্বাচনী কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। তিনি বলেন, ঘোষিত তফসিল মোতাবেক আগামী ১৯-২০ আগষ্ট যথাক্রমে রোববার ও সোমবার মনোনয়নপত্র বিক্রি হবে। ঐ দুদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত সোসাইটি অফিসে থেকে মনোননপত্র (প্যাকেজ) বিক্রি চলবে। আর মনোনয়নপত্র দাখিল হবে ২৬ আগষ্ট রোববার। মনোনয়নপত্র জমা নেয়া হবে রোববার ২৬ আগষ্ট ২০১৮ বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহার বৃহস্পতিবার ৩০ আগষ্ট ২০১৮ বিকেল ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত, মনোনয়নপত্র যাচাই বাছাই শেষে মঙ্গলবার ৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮ বিকেল ৭টা থেকে রাত ৯টায় চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করা হবে। মনোনয়ন সংক্রান্ত সকল কার্যক্রম বাংলাদেশ সোসাইটির কার্যালয় থেকে নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করবেন। নির্বাচন কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন- এ হাকিম মিয়া, কাওসারুজ্জামান কয়েস, মোহাম্মদ আর সরকার ও খোকন মোশাররফ।

এদিকে সোসাইটির নির্বাচন ঘিরে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। নির্বাচনে ২/৩টি প্যানেল হওয়ার কথা শুনা যাচ্ছে। সম্ভাব্য প্যানেলের একটিতে রয়েছেন আব্দুর রব ও রুহুল আমীন সিদ্দিকী অর্থাৎ ‘রব-রুহুল’ প্যানেল আর অন্য প্যানেল থাকছেন কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন ও মোহাম্মদ আলী অর্থাৎ ‘নয়ন-আলী’ প্যানেল। এছাড়াও সোসাইটির সাবেক সাধারণ সম্পাদক জয়নাল আবেদীনের নেতৃত্বে একটি প্যানেল হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অপরদিকে সোসাইটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ওসমান চৌধুরী সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী হচ্ছেন বলে জানা গেছে।

‘রব-রুহুল’ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে বৃহত্তর নোয়াখালী এসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুর রব মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সোসাইটির বর্তমান সাধারণ সম্পাদক রুহুল আমীন সিদ্দিকীর প্রার্থীতা চুড়ান্ত হয়েছে। অপরদিকে ‘নয়ন-আলী’ প্যানেল থেকে সভাপতি পদে চট্টগ্রামের মিরেশ্বরাই সমিতি ইউএসএ’র সভাপতি কাজী আশরাফ হোসেন নয়ন এবং সাধারণ সম্পাদক পদে সোসাইটির বর্তমান কোষাধ্যক্ষ মোহাম্মদ আলীর প্রার্থীতা চুড়ান্ত হয়েছে। সূত্রে মতে, সোসাইটির বর্তমান কার্যকরী কমিটির কর্মকর্তাদের মধ্যে অধিকাংশ কর্মকতাই ‘রব-রুহুল’ প্যানেলের সাথে পুরনায় নির্বাচন করছেন। অন্যরা ‘নয়ন-আলী’ প্যানেলের সাথে থাকছেন বলে সূত্র জানায়। তাদের বাইরেও নির্বাচনী প্রচারণায় নতুনদের মধ্যে শেখ হায়দার আলী, ডা. শাহনাজ লিপি, আব্দুল মোমেন সোহেল প্রমুখের নাম শুনা যাচ্ছে।

নির্বাচন ঘিরে প্রার্থীরা ইতিমধ্যেই গণ সংযোগ শুরু করেছেন। এজন্য তারা কমিউনিটির বিভিন্ন সভা-সমাবেশ ছাড়াও বিভিন্ন সংগঠনের বনভোজন অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে, দোয়া, সহযোগিতা আর ভোট চাচ্ছেন। অনেকে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অর্থ অনুদান দিচ্ছেন। সবমিলিয়ে জমে উঠতে শুরু করেছে সোসাইটির নির্বাচন।
অপরদিকে বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে সভাপতি পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী দাবীদার ওসমান চৌধুরী বলেছেন, বাংলাদেশ সোসাইটি দেশের পতাকাবাহী প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রিয় সামাজিক সংগঠন। যুক্তরাষ্ট্র প্রবসী সকল বাংলাদেশীদের মান-সম্মান এই সংগঠনের সাথে জড়িত। কিন্তু সোসাইটির অনিয়ম দিনে দিনে নিয়মে পরিণত হচ্ছে। যা অত্যন্ত দু:খজনক। আমরা শত চেষ্টা করেও সোসাইটিকে সত্যিকারের গণমুখী তথা প্রবাসীদের সংগঠনে পরিণত করতে পারছি না। তাই সোসাইটির অনিয়ম রোধেই আগামী নির্বাচনে সভাপতি পদে প্রার্থী হচ্ছি।

বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও দুইবারের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ওসমান চৌধুরী ইউএনএ প্রতিনিধি’র সাথে আলাপকালে উপরোক্ত কথা বলেন। তিনি বলেন, পত্রিকার খবরের মাধ্যমে জানতে পারলাম যে এবার অর্থ সাশ্রয় করতে ভোটারদের চিঠি দেয়া হবে না। এটি ঠিক হবে না। ভোটারদের চিঠির মাধ্যমে অবশ্যই তাদের ভোটার নম্বর জানানো উচিৎ। ইতিপূর্বের নির্বাচনেও তাই হয়েছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ‘নির্বাচনী প্যাকেজ’-এর মূল্যও বেশী। যাতে সবাই অংশ নিতে না পারেন সে জন্যই একটি মহলের ইংগিত নির্বাচন কমিশন এতো মোটা অংকের অর্থ ফি ধার্য করেছেন। ইতিপূর্বে কোন নির্বাচনেই এতো ফি ধার্য্য ছিলো না।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, আমি ভোটার কিনা তা কিভাবে জানবো। ইতিপূর্বে সোসাইটির সকল নির্বাচনের আগে মেইলিং চিঠিতে ভোটার নম্বর নিশ্চিত করা হতো এবং ভোটারের কাছে ভ্যালিট রিসিট আছে। তাছাড়া কারো বাসায় যদি বাসায় কম্পিউটার না থাকে, তাহলে অনলাইনে কি করে ভোটার আইডি সে বের করবে।

তিনি অভিযোগ করে বলে, নির্বাচনে নিউইয়র্ক ষ্টেটের স্ট্যান্ডর্ট আইন মানা হচ্ছে না। অথচ সোসাইটি ‘নট ফর প্রফিট’ সংগঠন। অপরদিকে নির্বাচন কমিশন আগেভাগেই কি করে ভাবলেন যে নির্বাচনের সময় জাল আইডি ব্যবহার করা হবে এবং পুলিশের কাছে সোপর্দ করার কথা। আর ক্যামেরা বসিয়ে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় সোসাইটির অর্থ অপচয় ছাড়া আর কিছু নয়। নির্বাচন কমিশন ভোটারের স্বাক্ষর ভেরিফাই না করে ডাবল আইডি চেক করার বিষয়টি হাস্যকর ব্যাপার বলে তিনি মন্তব্য করেন এবং নির্বাচন কমিশনের এসব সিদ্ধান্তে ভোটারদের হয়রানী বাড়বে বলে জানান।
তিনি বলেন, আমার দাবী নির্বাচন কমিশনের নির্বাচনী ফি কমিয়ে সবাইকে অংশ নেয়ার সুযোগ দেয়া হোক। বর্তমান ফিতে অনেকের পক্ষেই নির্বাচনে অংশ নেয়া সম্ভব নয়। সোসাইটি গণমুখী হবে না। এজন্য তিনি সকল প্রবাসী বাংলাদেশীর প্রতি আহ্বান জানান যেনো তারা নির্বাচন কমিশনকে বিষয়টি অবহিত করেন।
উল্লেখ্য, প্রাথমিক হিসেব চলতি বছর সোসাইটির আসন্ন নির্বাচন ঘিরে সদস্য/ভোটার নিবন্ধিত হয়েছেন ২৭,৫১৩। যা রেকর্ড ভোটার। এরমধ্যে ৪৮৮ জন আজীবন সদস্য/ভোটার রয়েছেন। সাধারণ ভোটার হচ্ছে ২৭,০২৫ জন।