Home>সকল সংবাদ>প্রবাসী>আমেরিকা>আসামে জাতিগত নিধন বন্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে
আমেরিকা ভারত

আসামে জাতিগত নিধন বন্ধে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে আওয়াজ তুলতে হবে

হককথা ডেস্ক: ভারতের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামের প্রায় চল্লিশ লাখ লোক জাতীয় নাগরিক তালিকার খসড়া থেকে চূড়ান্তভাবে বাদ পড়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সাউথ এশিয়ান সলিডারিটি ফাউন্ডেশন (এসএএসএফ)। মানবতাবিরোধী এ বিতর্কিত তালিকা প্রত্যাহার করতে ভারত সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। গত ৬ আগষ্ট সোমবার নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশ প্লাজা অডিটরিয়ামে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে একথা বলেন ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক ইমরান আনসারী।

লিখিত বক্তব্যে ইমরান আনসারী আশঙ্কা প্রকাশ করেন জাতীয় নাগরিক তালিকা থেকে বাংলাভাষাভাষী আসামের মুসলমানদের বাদ দেয়ার মধ্য দিয়ে সরকার একটি জাতিগোষ্ঠীকে নিধনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এসব নৃতাত্ত্বিক বাংলাভাষি মানুষ রাখাইনের রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছেন বলে সংগঠনটি পক্ষ থেকে লিখিত বিবৃতিতে জানানো হয়। আসামের এজনগোষ্ঠীর পাশে দাড়াতে ‘আসাম টাস্কফোর্স’ নামে একটি ক্যাম্পেইন চালুর ঘোষনাও দেয়া হয় ওই প্রেস কনফারেন্সে। এই টাস্কফোর্সেও মাধ্যমে জাতিসংঘ ও যুক্তরাষ্ট্রে স্টেইট ডিপার্টমেন্টসহ আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনের দৃষ্টি আকর্ষনে ভিন্নমাত্রিক উদ্যোগ নেয়া হবে বলে সংগঠনটির পক্ষ্য থেকে জানানো হয়। এউদ্যোগে আমেরিকায় বসবাসরত দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিটি মানুষকে সহায়তার মানুষিকতা নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানানো হয় এএসএএসএফ-এর পক্ষ থেকে।

প্রেস কনফারেন্সের শুরুতেই বাংলাদেশে চলামান নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনে প্রতি ফাউন্ডেশনের সংহতি জানানো হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশে সংবাদকর্মীদের উপর হামলা ও মামলার ঘটনায় নিন্দা জানানো হয়। উক্ত প্রেস কনফারেন্সে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য রাখেন সাউথ এশিয়ান সলিডারিটি ইনিশিয়েটিভের ইন্ডিয়ান আমেরিকান সানিয়া জে, জালালাবাদ এসোসিয়েশন অব আমেরিকা’র সভাপতি বদরুল হোসেন খান, মাওলানা ভাষানী ফাউন্ডেশন ইউএস ইনক-এর সেক্রেটারী আলী ইমাম, ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন ইউসুফ, বাংলাদেশী আমেরিকান এডভোকেসী গ্রুপের সেক্রেটারী জয়নুল আবেদীন, ইউএনএ-ইউএসএ কুইন্স চাপ্টারের প্রেসিডেন্ট সুলতান মারুফ, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট এডভোকেট মুজিবুর রহমান, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শামীম, বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সহ-সভাপতি ফারুক হোসেন মজুমদার প্রমূখ।

সানিয়া জে বলেন, নাগরিকত্ব তালিকা থেকে বাদ দেয়ার পাশাপাশি তাদেরকে ভূমি থেকে উচ্ছেদ করে সেল্টারে রাখার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এখনই ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদেরকে তা মোকাবেলা করতে হবে।
বদরুল হোসেন খান বলেন, আসামে মুসলামানদের বিরুদ্ধে যে উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে তা বাংলাদেশী কমিউনিটির জন্য একটি ভয়াবহ বার্তা। ভারত সরকারের এউদ্যোগ মোকাবেলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসনকে সম্পৃক্ত করতে আমাদেরকে দল মতের উর্ধে উঠে একযোগে কাজ করতে হবে।

আলী ইমাম বলেন, আসামে যা হচ্ছে তা সা¤্রাজ্যবাদী শক্তির অপতৎপরতার শেষ পরিণাম। আসামকে রাখাইন রাজ্যে পরিণত করতেই ভারত সরকার এ বিতর্কিত তালিকা প্রকাশ করেছে। ওয়ার্ল্ড রোহিঙ্গা এসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট মহিউদ্দিন ইউসুফ বলেন, আসামের মুসলমানরা রোহিঙ্গাদের ভাগ্য বরণ করতে যাচ্ছেন। এটি জাতিসংঘের কনভেনশনের লংঘন। এজন্য আমাদের জাতিসংঘে আইনগতভাবে লড়তে হবে। জয়নাল আবেদিন বলেন, আসামের এ মানুষদের রক্ষায় বাংলাদেশকে ভারতের প্রতি কড়া বার্তা প্রেরণ করতে হবে।
এডভোকেট মুজিবুর রহমান বলেন, আজকে বিশ্ব জুড়ে মানবতাকে ধ্বংসে একদল রাজনীতিবিদ উঠে পড়ে লেগেছে। যারই অংশ হিসেবে আসামে লাখো মানুষের নাগরিকত্ব কেড়ে নেয়া হয়েছে। এউদ্যোগের বিরুদ্ধে আমাদের বিশ্বজনমত গড়ে তুলতে হবে।

জয়নুল আবেদিন বলেন, রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেবার সময় বিশ্ববাসী ভারতের অবস্থান দেখতে পেয়েছে। ঠিক একই কায়দায় তারা বাংলাভাষাভাষী আসামের মুসলমানদের বাংলাদেশে ঠেলে দিতে চায়। তাদের এহটকারি সিদ্ধান্ত রুখে দিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনকে আমাদের চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
সুলতান মারুফ বলেন, আমাদেরকে আসামের মানবিক বিপর্যয় ঠেকাতে হলে জাতিসংঘের ভিতরে গিয়ে কথা বলতে হবে।