শিরোনাম
  • রাজধানীতে গুলি করে আড়াই লাখ টাকা ছিনতাই

  • সিলেটে জাল টাকা ও মেশিনসহ ৩ জন আটক

  • শৈলকূপায় গলিত লাশ উদ্ধার
  • বাসের মধ্যে প্রসব, সহৃদয় চালক নিয়ে গেলেন হাসপাতালে
  • মুন্সীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রীর লাশ উদ্ধার
  • টাঙ্গাইলে নারী এনজিও কর্মীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই
চিরসত্য
সেদিন কোন কোন মুখ উজ্জ্বল হবে, আর কোন কোন মুখ হবে কালো। বস্তুতঃ যাদের মুখ কালো হবে, তাদের বলা হবে, তোমরা কি ঈমান আনার পর কাফের হয়ে গিয়েছিলে? এবার সে কুফরীর বিনিময়ে আযাবের আস্বাদ গ্রহণ কর। সুরা আল ইমরান, আয়াত-১০৬
সাম্প্রতিক
প্রবন্ধ
জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ ও উৎস চিহ্নিত করা যায়নি

ঘটনার পরে পাঁচদিন পেরিয়ে গেলেও জাতীয় গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ ও উত্স্য উদঘাটন করতে পারেনি এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয় বিদ্যুৎ বিভাগে এক জরুরী সংবাদ সম্মেল, জাতীয় গ্রিড বিপর্যয় কারণ উদঘাটনে গঠিত তদন্ত কমিটির আংশিক তদন্ত প্রকাশকালে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ এ বলেন, এখনো গ্রিড বিপর্যয়ের উৎস চিহ্নিত করা যায়নি। আমরা দেশের পশ্চিমাঞ্চল, পূর্বাঞ্চল, ও বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর তথ্য যাচাই করেছি। এ বিপর্যয় দেশের পশ্চিমাঞ্চল গ্রিডে হয়নি। দেশের ভেতর অন্য কোথাও ফ্রিকোয়েন্সিতে (তরঙ্গ) সমস্যা হয় বিপর্যয় হয়েছে এটা প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। তবে ঠিক কোথায় এ সমস্যা হয়েছে তা এখনো চিহ্নিত করা যায়নি।
এর আগে ১ নভেম্বর জাতীয় গ্রিডে দুই দফায় বিপর্যয় হওয়ায় সারা দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় গ্রিডের এ বিপর্যয়ের কারণ উদঘটানে দুটি কমিটি করা হয়। এর একটি আট সদস্যের কমিটি করা হয় বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আহমেদ কায়কাউসকে প্রধান করে। এ কমিটির ঘটনার তিনদিনের ভেতর প্রতিবেদন দেওয়ার কথা ছিল। সে মতে গত মঙ্গলবারে কমিটির তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও গতকাল কমিটি আংশিক প্রতিবেদন দেয়। সেই আংশিক প্রতিবেদনেও জাতীয় গ্রিডের বিপর্যয়ের কারণ ও উত্স্য চিহ্নিত করতে পারেনি। এ ঘটনায় পাওয়ার গ্রিড অব বাংলাদেশের (পিজিসিবি) পাঁচ সদস্যের আরেকটি কমিটি করা করেছে এর নির্বাহী পরিচালক তপন কুমারকে প্রধান করে।
ঘটনার পর থেকে পাঁচ দিন অতিবাহিত হয়ে গেলেও তদন্ত কমিটি গ্রিড বিপর্যয়ের কারণ জানতে পারেনি। এমন কি এই গ্রিড বিপর্যয়ের উৎসও চিহ্নিত করতে পারেনি। এ ঘটনায় বিদ্যুৎ বিভাগ ভারত থেকে আসা ৪৬০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ বন্ধ করে দেওয়ায় বিপর্যয় হয়েছিল এমনটা দাবি করেছিল সেই দাবি থেকে এই সংবাদ সম্মেলনে সরে আসলেন। বাংলাদেশের অভ্যান্তরীণ সমস্যার কারণে বিদ্যুৎ বিপর্যয় হয়েছে বলে তদন্ত কমিটির সংবাদ সম্মেলন থেকে দাবি করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে নসরুল হামিদ বলেন, আমরা এই মুহূর্তে বলতে পারি আমাদের অাভ্যন্তরীণ সমস্যার কারণেই বিপর্যয় ঘটেছে। ইতিমধ্যে আমরা ন্যাশনাল লোডডেসপাস সেন্টারসহ (এলএনডিসি) চারটি প্রতিষ্ঠানের তথ্য পর্যালোচনা করেছি। দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রের তথ্য যাচাই করে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন দেওয়া হবে। দেশের সব বিদ্যুৎকেন্দ্রে ডিজিটাল সিস্টেমের নয়, এ কারণে তথ্য পেতে দেরি হচ্ছে।
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ আদৌ কি জানা যাবে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, তদন্ত কমিটি আজ প্রাথমিক তদন্ত প্রকাশ করল। ঘটনার আরো গভীরে যাওয়া দরকার। আমাদের বিদ্যুৎ খাতই ব্যাপক উন্নয়ন দরকার। আমাদের তথ্য পেতে কম সময় লাগত যদি আমাদের সব ব্যবস্থা ডিজিটাল হতো। এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, প্রাথমিক প্রতিবেদন যেটা আমরা পেয়েছি তাতে দেখা গেছে, এই বিপর্যয় আমাদের দেশের ভেতর হয়েছে। ১ সেকেন্ডের কম সময় বিদ্যুৎ যে ফ্রিকোয়েন্সিতে সরবরাহ করা হয় তাতে অনেক কিছু ঘটে যেতে পারে। এই পুরো সিস্টেমে আমরা অনেক পিছিয়ে আছি।
উল্লেখ্য, গত শনিবার সকাল ১১টা ২৭ মিনিট ও ৪টা ২৫ মিনিটে ভারত-বাংলাদেশ বিদ্যুৎ সরবরাহ লাইনে দুই দফা  বিপর্যয় (ট্রিপ) ঘটে। এর ফলে গোটা বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চালন লাইন বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে। সঞ্চালন লাইনে বিপর্যয় হওয়ার কারণে সারা দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ করে দেয় বিদ্যুৎ বিভাগ। এরপর ওই দিন দুপুর ১২টা ২৮ মিনিটে প্রথম সরবরাহ শুরু হয় দ্বিতীয়বার বন্ধের পর পৌনে ৬টায় আবার চালু হয় বিদ্যুৎ সরবরাহ। বিদ্যুতের সাভাবিক অবস্থা ফিরে আসতে শনিবার গোটা রাত লেগে যায়। এ ঘটনায় প্রাথমিকভাবে সরকারের বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মকর্তারা ভারত থেকে আসা বিদ্যুতের কারণেই এমনটা হয়েছিল বলে দাবি করেন।

Back To Top