শিরোনাম
  • রাজধানীতে গুলি করে আড়াই লাখ টাকা ছিনতাই

  • সিলেটে জাল টাকা ও মেশিনসহ ৩ জন আটক

  • শৈলকূপায় গলিত লাশ উদ্ধার
  • বাসের মধ্যে প্রসব, সহৃদয় চালক নিয়ে গেলেন হাসপাতালে
  • মুন্সীগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যানের স্ত্রীর লাশ উদ্ধার
  • টাঙ্গাইলে নারী এনজিও কর্মীকে কুপিয়ে টাকা ছিনতাই
চিরসত্য
আবু হোরায়রা রাদিয়াল্লাহু 'আনহু হতে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন-রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "অনর্থক অপ্রয়োজনীয় বিষয় ত্যাগ করাই একজন ব্যক্তির উত্তম ইসলাম।" [হাদীসটি হাসান। তিরমিযীঃ ২৩১৮, ইবনে মাজাহঃ ৩৯৭৬]
সাম্প্রতিক
প্রবন্ধ
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনায় ভেড়ামারায় তদন্ত কমিটি

সারাদেশে গত শনিবার বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় বাংলাদেশ-ভারত সঞ্চালন লাইন কেন্দ্র পরিদর্শন করেছেন।

মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে উপজেলার রামকৃষ্ণপুর গ্রামের কেন্দ্রে আসেন তদন্ত কমিটির সদস্যরা। এ কেন্দ্রের মাধ্যমে ভারত থেকে আমদানি করা প্রায় ৪৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যোগ হয়।
 
পরে কমিটি প্রধান বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. আহমেদ কায়কাউস সাংবাদিকদের জানান, এই কেন্দ্রসহ সারাদেশের গ্রিডগুলো থেকে পাওয়া তথ্য নিয়ে একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন বৃহস্পতিবার সরকারের কাছে জমা দেয়া হবে।
 
গত শনিবার সকাল ১১টা ২৮ মিনিটে ভেড়ামারা বিদ্যুৎ সঞ্চালন সাবস্টেশনে সমস্যা দেখা দেয়। এতে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বন্ধ হয়ে যায়। এ ঘটনার প্রভাবে পর্যায়ক্রমে দেশের সব কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। জাতীয় গ্রিড বিকল হওয়ায় বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশ। প্রাথমিকভাবে দুপুর ১২টা ২৬ মিনিটে বিদ্যুৎ সঞ্চালন আবার শুরু হয়। বিকেলে আবার জাতীয় গ্রিড বিকল হয়ে পড়ে। রাতে কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ আসে। কিছু এলাকায় বিদ্যুৎ এসে আবার চলেও যায়।
 
বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধানে দুটি কমিটি হয়েছে। বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) ড. আহমেদ কায়কাউসকে প্রধান করে সাত সদস্যের একটি কমিটি এবং পিজিসিবির পরিচালক তপন কুমার রায়কে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের আরেকটি কমিটি গঠন করা হয়। দুই কমিটিকেই তিন দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়।
 
ভেড়ামারা কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন জানান, মঙ্গলবার সকাল ১১টার দিকে বিদ্যুৎ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. আহমেদ কায়কাউসের নেতৃত্বে আট সদস্যের একটি দল ভেড়ামারা বিদ্যুৎকেন্দ্রে পৌঁছায়। এরপর তদন্ত দল কেন্দ্রের কারিগরি নির্দেশনা নিয়ন্ত্রণ কক্ষের কম্পিউটার থেকে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে। তদন্ত দল কেন্দ্রের ভেতরে স্থাপন করা অন্যান্য যন্ত্রাংশও পর্যবেক্ষণ করেন।
 
প্রায় এক ঘণ্টা পর্যবেক্ষণ শেষে বেলা ১২টা ২০ মিনিটে তদন্ত কমিটির প্রধান আহমেদ কায়কাউস সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।
 
তিনি বলেন, '১ নভেম্বর দেশে একটা জাতীয় দুর্যোগ হয়েছিল। তারপরও দেশের মানুষ ধৈর্ষসহকারে এ বিপর্যয় মোকাবেলা করেছেন। এজন্যে জনগণ ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। এই কেন্দ্রসহ দেশের অন্যান্য কেন্দ্রের যাবতীয় তথ্য-উপাও সংগ্রহ করা হচ্ছে। তবে পার মিলি সেকেন্ডের তথ্য সংগ্রহ একটা জটিল বিষয়। সেটা নিরূপণ করতে সময় লাগবে। এজন্য আগামী বৃহস্পতিবার একটি প্রাথমিক প্রতিবেদন দেয়া হবে।'
 
তবে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে আরও কয়েক দিন সময় লাগবে বলে জানান কমিটি প্রধান।
 
এক প্রশ্নের জবাবে আহমেদ কায়কাউস সাংবাদিকদের বলেন, 'আমরা প্রতিটি কেন্দ্র থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি। সরেজমিন সেখানে যাচ্ছি, পয়েন্ট টু পয়েন্ট খতিয়ে দেখছি। বিদ্যুৎ সরবরাহ, বিতরণ ও সঞ্চালনের বিষয়গুলো দেখা বিদ্যুৎ বিভাগের কাজ। নাশকতার বিষয়টি সরকারের অন্যান্য সংস্থা দেখবে।'
 
এরপর বিকেল তদন্ত কমিটির সদস্যরা ঢাকার উদ্দেশে ভেড়ামারা ত্যাগ করেন।
 
উল্লেখ্য, দেশের বিদ্যুৎ খাতে এটাই সবচেয়ে বড় বিপর্যয় বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। এর আগে ২০০৭ সালে সিডরের সময় ও  ২০০২ সালে জাতীয় বিদ্যুতের গ্রিড বিপর্যয় হয়েছিল। কিন্তু দুইবারই কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পরিস্থিতি আবারও স্বাভাবিক হয়ে যায়।

Back To Top