শেখ হাসিনার দেশধ্বংসী জঙ্গি রাজনীতি এবং গৃহযুদ্ধের পথে বাংলাদেশ

শেখ হাসিনার উম্মাদিনী রূপ

বাংলাদেশ আজ  দ্রুত গৃহযুদ্ধের পথে। দেশকে সে দিকে ধাবিত করার কাজে চালকের সিটে এখন শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা যে বহু আগেই মানসিক সুস্থ্যতা ও সুস্থ্য কাণ্ডজ্ঞান হারিয়েছেন সে প্রমাণ কি কম? তাঁর উম্মাদিনী এ জঙ্গি রূপের কারণ মুলত দুটি। এক,১৯৭৫ সালের ১৫ আগষ্টে তার পিতামাতা,ভাই ও বহু আত্মীয়স্বজনের করুণ মৃত্যু। দুই,তাঁর ক্ষমতা-লিপ্সা। ক্ষমতার অতিলিপ্সা যে মানুষকে জ্ঞানশূণ্য উম্মাদে পরিণত করে সে প্রমাণ কি ইতিহাসে প্রচুর। মস্তিষ্কবিকৃত সাধারণ পাগলদের হাতে গুম,খুণ,সন্ত্রাস বা গণহত্যা হয় না। বাকস্বাধীনতা-হরন ও গণতন্ত্র-খুণও হয় না। কিন্তু ক্ষমতা-পাগল রাজনীতিদের হাতে সেগুলি বীভৎস ভাবে হয়। রাজক্ষমতা পাওয়ার স্বার্থে বহু রাজপুত্র অতীতে এমন কি নিজ পিতাকে হত্যা করেছে। মসনদ ধরে রাখতে তারা নিজ ভাই ও নিজ পুত্রকে হত্যা করে বা অন্ধ করে দেয়।এমন ক্ষমতাপাগলরাই দেশে দেশে মীর জাফর হয়। নিজ-গদি নিরাপদ করতে গিয়ে এরা গণতন্ত্রকে যেমন কবরে পাঠায় এবং দেশবাসীকেও গুলির খাদ্য বানায়। বাংলাদেশে বড় বড় বিপদগুলো তো এসেছে এরূপ ক্ষমতালিপ্সু উম্মাদদের হাতে। ক্ষমতা-পাগল শেখ মুজিব একাত্তরে দেশবাসীকে প্রকাণ্ড একটি যুদ্ধ উপহার দিয়েছিলেন। নিজ দেশে তিনি ভারতীয় হানাদার সেনাবাহিনী ডেকে এনেছিলেন -যাদের হাতে লুট হয়েছে হাজার হাজার কোটি টাকার যুদ্ধাস্ত্র ও সম্পদ। তাঁর ক্ষমতায় যাওয়ায় গণতন্ত্র লাশ হয়েছিল এবং প্রতিষ্ঠা পেয়েছিল বাকশাল। নিজের গদি বাঁচাতে তিনি তিরিশ হাজারের বেশী স্বদেশবাসীকে হত্যা করেছিলেন।স্বাধীনতার নামে তিনি অধীনতা প্রতিষ্ঠা করেছিলেন ভারতের।  

মুজিবের পথ ধরে শেখ হাসিনা এবার উপহার দিতে যাচ্ছেন আরেক যুদ্ধ। সেটি আসছে গৃহযুদ্ধ রূপে। এ যুদ্ধে শত্রুপক্ষ খেলবে তাদের এজেন্টদের মাধ্যমে। তেমন একটি যুদ্ধের প্রস্ততিতে আওয়ামী লীগের ক্যাডারগণ পুলিশী ও র‌্যাব প্রহরায় ঢাকায় শাহাবাগের মোড় দখল করে ধ্বনি তুলেছে,“একাত্তরের হাতিয়ার গর্জে উঠুক আরেক বার”। উদ্দেশ্য সুষ্পষ্ট। একাত্তরে যেসব ইসলামপন্থিদের তারা খুন করতে পারিনি,এবার নেশা চেপেছে তাদের খুনের। শ্লোগান উঠেছে প্রতিটি রাজাকার নির্মূলের। শেখ হাসিনার এ ভয়ংকর উম্মদনায় যেটি কাজ করছে সেটি শুধু ক্ষমতার লিপ্সা নয়,বরং ভয়ংকর প্রতিশোধের লিপ্সাও। প্রতিশোধ নিতে চায় তারা তার পিতা-মাতা,ভাই-ভাবী ও আত্মীয়স্বজন হত্যার। তার রাজনীতির এটিই হলো মূল এজেণ্ডা,বাংলাদেশের উন্নয়ন বা কল্যাণ নয়। দেশে গণতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাও নয়।দেশবাসী চোর-ডাকাত-সন্ত্রাসী মূক্ত নিরাপদ জীবন পাক, শিক্ষাঙ্গণে শিক্ষার পরিবেশ সৃষ্টি হোক, গ্রামেগঞ্জে শিল্পকরখানা গড়ে উঠুক বা দেশে পদ্মাসেতুর ন্যায় আরো বহু সেতু নির্মিত হোক -সেটি তার প্রায়োরিটি নয়। বরং তার এজেণ্ডা প্রতিশোধ নেয়া। মনের সে প্রবল আখাঙ্খাটি তিনি কখনো গোপনও করেননি।   

‘হট হেডেড’ শেখ হাসিনা

মানুষ সুস্থ্যতা পায় শুধু তার দেহের সুস্থ্যতার কারণে নয়,বরং জরুরী হলো মনের সুস্থ্যতাও। অধিক শোকে এবং প্রতিশোধের প্রচণ্ড নেশায় মনের সে সুস্থ্যতা বিনষ্ট হয়। তখন উন্মাদনা নিয়ে অনেকে রাস্তায় নামে। প্রশ্ন হলো,শেখ হাসিনাকে কি আদৌ সুস্থ বলা যায়? সুস্থ্যতার লক্ষণ কি শুধু পানাহার,চলাফেরা ও কথাবলার সামর্থ? সে সামর্থ বহু পাগলেরও থাকে। মনের অসুস্থ্যতা শারিরীক বল,দেহের বসন ও সাজ-সজ্জাতেও ধরা পড়ে না। কে পাগল বা পাগলিনী সেটি কারো গায়ে লেখা থাকে না। ধরা পড়ে তার কথা,আচরণ ও কর্মের ভারসাম্যহীনতায়। উন্মাদের দেহীক বল থাকলেও সে মানসিক সুস্থ্যতা বা ভারসাম্যতা থাকে না। কথায় কথায় সে ডিগবাজি দেয়। তাই সে উন্মাদ। শেখ হাসিনার আচরণে কি সেটিই ধরা পড়ে না? তার সে অসুস্থ্যতার সাক্ষ্য দিয়েছে দেশের হাইকোট্রের ফুল বেঞ্চ। আদালত অবমাননার এক রায়ে বিচারকগণ তাকে “হটহেডেড” বলে  অভিহিত করেছিলেন। সুস্থ মানুষ পথ চলায় এদিক-ওদিক হেলে পড়ে না,কথা বলাতেও উলোট পালোট করে না। মানসিক অসুস্থ্যতায় সে ভারসাম্যতা অসম্ভব।

শেখ হাসিনা যে মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন -সে প্রমাণ কি কম? কিছু উদাহরণ দেয়া যাক। স্বৈরাচারি এরশাদ-বিরোধী আন্দোলন তখন তুঙ্গে।সে সময় শেখ হাসিনা ঘোষণা দেন,এরশাদ-বিরোধী আন্দোলনের সাথে গাদ্দারি করলে সে চিহ্নিত হবে জাতীয় বেঈমান রূপে। অথচ এ ঘোষণার পরের দিন তিনি নিজেই আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ান। পরে এরশাদের পাতানো নির্বাচনে যোগ দিয়ে তিনি গৃহপালীত বিরোধী দলের সংসদীয় নেত্রীতে পরিণত হলেন। এটি কি কোন সুস্থ্য ব্যক্তির কাজ হতে পারে? ভারসাম্যহীন এক অস্থিরতা দেখিয়েছেন পদ্মা সেতু প্রকল্পে বিশ্বব্যাংকের ঋণ নিয়েও। পদ্মা সেতু প্রকল্পটি ছিল ৪ মাইল দীর্ঘ লম্বা এক বিশাল সেতু নির্মাণের। প্রস্তাবিত ঋণ ছিল প্রায় ২ বিলিয়ন (২০০ কোটি) ডলারের,যার মধ্যে ১২০ কোটি ডলার দেয়ার কথা ছিল বিশ্বব্যাংকের। বাংলাদেশের ইতিহাসেই এটিই ছিল সবচেয়ে বৃহৎ প্রকল্প। বাংলাদেশ সরকারের একার পক্ষে এতবড় প্রকল্পের জন্য অর্থ জোগানো দেয়া অসম্ভব। এর পূর্বে এর অর্ধেক খরচের প্রকল্পের জন্যও বিদেশীদের কাছে হাত পাততে হয়েছে। পদ্মাসেতুটি বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বড় রকমের ভূমিকা রাখতে পারতো। কিন্তু মন্ত্রীদের দুর্নীতির কারণে বিশ্বব্যাংক ঋণদান স্থগিত করে দেয় এবং দাবী করে মন্ত্রী ও অফিসারদেতর বিরুদ্ধে দূর্নীতি তদন্তের। শেখ হাসিনা প্রথমে দূর্নীতিবাজদের বিচার দূরে থাক, দূর্নীতি যে হয়েছে সেটাই অস্বীকার করলেন। বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তাগণ দূর্নীতর প্রমাণ পেশ করলেন এবং দাবী করলেন ঋণ পেতে হলে দূর্নীতিপরায়নদের বিচার করতে হবে। পদ্মাসেতু তাঁর নির্বাচনি ওয়াদা,এবং সেতু গড়তে হলে ঋণও জরুরী। বাধ্য হয়ে শেখ হাসিনা তখন বিচারে রাজী হন,এবং বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ পাওয়ার জন্য দেনদরবারের কাজে লোকও পাঠান। কিন্তু দূর্নীতির দুই মূল হোতা এবং তাঁর সরকারের দুই সাবেক মন্ত্রীকে বিচারের বাইরে রাখেন। বিশ্বব্যাংক তাতে খুশি হয়নি। ফলে বাতিল করে দেয় সম্পন্ন ঋণদান প্রকল্পটি। মুখে চুনকালি লাগলো শুধু শেখ হাসিনার সরকারের নয়, সমগ্র বাংলাদেশীদেরও। বিশ্বব্যাংকের এ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশ বিশ্বব্যাপী চিত্রিত হলো চোরডাকাতের দেশরূপে। দেশটি অর্থ কর্জ পাওয়ারও যে অযোগ্য সেটিই বিশ্ববাসীর কাছে বিশ্বব্যাংক জানিয়ে দিল। ফলে ঋণদান থেকে পিছিয়ে গেল জাপান,এশিয়ান ডেভোলপমেন্ট ব্যাংক ও ইসলামি ডেভোলপমেন্ট ব্যাংক। কিন্তু এতবড় বেইজ্জতির পরও শেখ হাসিনা লজ্জা পাননি,বরং নতুন সুরে বলছেন,তার সরকারই বিশ্বব্যাংক থেকে ঋণ নিবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে। সরকারের অন্যান্য মন্ত্রীরা বলছেন,তারা নিজ অর্থে পদ্মা সেতু গড়বেন। ভাবটা যেন,ব্শ্বি ব্যাংক ঋণ দিতে দু’পায়ে খাড়া ছিল,বাংলাদেশই সেটি নিবে না বলে তাদেরকে জানিয়ে দিয়েছে। তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান নিয়েও কি তাঁর ডিগবাজিটা কম ভারসাম্যহীন? একসময় তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রতিষ্ঠায় জন্য তিনি তীব্র আন্দোলন করেছেন। অথচ আজ নিজেই সে বিধানকে আদালতের মাধ্যমে নাকোচ করার ব্যবস্থা নিলেন। এখন প্রচরণায় নেমেছেন ও দোষ খুঁজছেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিরুদ্ধে। কথা হলো, কোন মানসিক সুস্থ্য ব্যক্তি কি কথায় কথায় এরূপ ডিগবাজি দেয়?

রাজনীতিতে দেশধ্বংসী রূপ

কোন ব্যক্তির জীবনে অতি বেদনাদায়ক শোক হলো পিতামাতা,ভাইবোন ও আপনজনদের হারানোর শোক। শারীরিক বেদনার চেয়ে মনের এ বেদনাটি বড়ই কঠিন। প্রিয়জনদের মৃত্যুটা যদি হঠাৎ,নৃশংস ও মর্মান্তদ রূপে হয় তবে সে শোক সহ্য করা আরো কষ্টকর হয়ে পড়ে। দেহের ব্যথা ঔষধে সারে,কিন্তু মনের ব্যথা সারে না। হারানো আপনজনদের সে স্মৃতি মনের পর্দায় প্রতিদিন অসংখ্যবার হাজির হয়।মৃতদের প্রাণহীন সে করুণ মুখ আরো অস্থির করে তূলে। যখন তখন সে স্মৃতি সমগ্র চেতনা জুড়ে প্রচণ্ড ঝাঁকুনি দেয়। ধারালোর ছুড়ির ন্যায় সে স্মৃতিগুলো মনের পটে দিবারাত্র খোঁচাতে থাকে। ফলে বাড়ে মানসিক অস্থিরতা,বাড়ে ভারসাম্যহীনতা, অনেকের মনে বাড়ে উম্মাদনাও। এরূপ স্মৃতি তাদেরকে অতি প্রতিহিংসাপরায়ন করে তোলে। শেখ হাসিনার ক্ষেত্রে কি সেটিই ঘটছে না? একমাত্র আল্লাহর উপর প্রবল আস্থাশীল ব্যক্তিই মনের সে যাতনা থেকে মুক্তি পায়। নবীজী (সাঃ)র অতি আপনজন ছিলেন হযরত হামযা (রাঃ)। তিনি ছিলেন নবীজী (সাঃ)র অতি প্রিয় চাচা। ওহুদের জিহাদে তিনি ছিলেন মুসলমানদের জেনারেল। তিনি শহীদ হন। নবীজী তাঁকে বলেছেন সায়েদুস শোহাদা অর্থাৎ শহীদদের নেতা। আবু সুফিয়ানের স্ত্রী হিন্দা তার বুক চিরে কলিজা বের করে চিবিয়েছিল। কিন্তু নবী (সাঃ) তাকেও মাফ করে দিয়েছিলেন।

সেক্যুলার ব্যক্তিদের রাজনীতিতে যেমন ইসলাম থাকে না,তেমনি তাদের চেতনাতেই আল্লাহর উপর আস্থা থাকে না। ফলে প্রচণ্ড প্রতিহিংসা পরায়ন হয়। মানব-ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বড় গণহত্যা করেছে তারা। গত শতাব্দীর দুই বিশ্বযুদ্ধে তারা সাড়ে সাত কোটি মানুষকে হত্যা করেছে। মার্কিন সেক্যুলারিস্টরা জাপানের বিমান হামলার প্রতিশোধ নিয়েছে দুটি আনবিক বোমা মেরে। নিউয়র্কের টুইন টাউরের ধ্বংসের বদলা নিয়েছে আফগানিস্তান ও ইরাক –এ দুটি মুসলিম দেশ ধ্বংস করে। তিন হাজার মানুষের হত্যার বদলা নিতে তারা বহু লক্ষ মুসলমানকে হত্যা ও পঙ্গু করেছে। একই রূপ সেক্যুলার চেতনার কারণে হাসিনাও তাই এক লাশের বদলে দশ লাশ ফেলতে বলে। প্রাণে সামান্য ঈমান থাকলে কেউ কি এমন কথা বলতে পারে? ইসলাম নাকের বদলে নাক,এক চোখের বদলে এক চোখ,এক হাতের বদলে এক হাত কেটে দেয়ার অধিকার দেয়। আপনজন  হত্যার প্রতিশোধ নিতে তিনি এখন দেশধ্বংসে নেমেছেন।  

গাড়ীর কোন যাত্রী অস্থির,অসুস্থ্য ও উদভ্রান্ত হলে গাড়ী খাদে পড়ে না। কিন্তু ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে যদি ভারসাম্যহীন অস্থির মতির সে ব্যক্তিটি চালকের সিটে বসে। তেমনি মানসিক ভাবে ভারসাম্যহীন ব্যক্তি গৃহিনী বা সাধারণ নাগরিক হলে দেশের ক্ষতি হয় না। কিন্তু দেশ মহাবিপর্যয়ে পড়ে যদি দেশের প্রশাসন,বিচার বা রাজনীতি এমন অসুস্থ্য ব্যক্তির হাতে যায়। আর  খোদ প্রধানমন্ত্রী ভারসাম্যহীন হলে চরম বিপর্যয়ে পড়ে সমগ্র দেশ।বাংলাদেশের আজকের বিপদের মূল কারণ তো এখানেই। উন্নত দেশের সমাজবিজ্ঞানীগণই শুধু নয়,সাধারণ নাগরিকগণও এ গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি বুঝে। তাই প্রধানমন্ত্রীর ন্যায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বসানোর আগে শুধু দেহের স্বাস্থ্যই পরীক্ষা হয় না,মনের স্বাস্থ্যের খুঁটিনাটি যাচাই হয়। শোক-কাতর অসুস্থ্য মানুষদের পুনর্বাসন কেন্দ্রে পাঠানো হয়,এবং বিরিভমেন্ট কাউন্সিলিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়। একমাত্র মানসিক ভাবে পুরাপুরি সুস্থ্য ও স্বাভাবিক করার পরই এমন ব্যক্তিকে কোন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসতে দেয়া হয়। কিন্তু সে রীতি বাংলাদেশে নাই,হাসিনার ক্ষেত্রে সে বিচার তাই আদৌ হয়নি। তিনি যে শেখ মুজিবের কন্যা এখানে শুধু সে বিষয়টিই গুরুত্ব পেয়েছে। ফলে বিপদও দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।

প্রতিশোধের রাজনীতি

পশুর লড়াইয়ে দর্শন বা বিচারবোধ কাজ করে না।পশু মাফ করতেও জানে না। আহত বাঘ তাই আরো হিংস্র হয়। পশুর জীবনে যেটি অতি হিংস্র রূপে কাজ করে সেটি হলো প্রতিশোধের স্পৃহা। মানব জীবন থেকে ধর্ম ও মানবতা বিলুপ্ত হলে মানুষও পশুর ন্যায় প্রতিহিংসা পরায়ন হয়। কিন্তু যাদের কাছে আল্লাহর ভয় আছে,শরিয়তী বিধান আছে,পরকালের পুরস্কার ও শাস্তির ধারণা আছে,তাদের কাছে প্রতিশোধের উর্দ্ধে উঠে কিছু করার প্রেরণা থাকে। প্রতিশোধের চেয়ে মাফ করতে তারা বেশী আগ্রহী হয়।ফলে শত্রু অধিকৃত মক্কা বিজিত হওয়ার পর মুসলমানদের হাতে শহরটিতে রক্তপাত হয়নি। কিন্তু যারা সেক্যুলার ও পরকালে বিশ্বাসহীন,তাদের পক্ষে শত্রুর সাথে আচরণে এরূপ সদয় হওয়াটি অসম্ভব। দলীয়,গোত্রীয় বা বর্ণবাদী বন্ধনের উর্দ্ধে উঠে উন্নত মানবিক মূল্যবোধ,বিচারবোধ বা চিন্তাভাবনা নিয়ে বিচার-বিবেচনার সামর্থ তাদের থাকে না। তাদের জীবনে বড় বিকলঙ্গতা হলো এটি। এমন বিকলঙ্গতা নিয়ে বিচার হয় না,বরং যা হয় তা হলো ভয়ানক প্রতিশোধ-পরায়নতা। প্রতিশোধের জজবাকে বেশী বেশী উস্কে দেয়াই তখন গোত্রীয় বা দলীয় নেতাদের প্রধান কাজ হয়ে দাঁড়ায়। এমন সমাজে তাই অনিবার্য হয়ে উঠে রক্তাত্ব সংঘাত। সেক্যুলার রাজনীতির এটিই হলো সবচেয়ে ভয়ংকর দিক। তাদের হাতে তাই ভয়ানক রক্তপাতগুলি শুধু যুদ্ধে হয় না,বরং হয় প্রতিপক্ষের আত্মসমর্পণের পর।বিনা রক্তপাতে মুসলমানদের হাতে যেরূপ শহরের পর শহর বিজিত হয়েছে,সেক্যুলারগণ সেটি ভাবতেও পারে না। বরং আত্মসমর্পণে উদ্যত রাষ্ট্রের উপরও তারা আনবিক বোমা ফেলে। যেমনটি জাপানে হয়েছে। বাংলাদেশেও একাত্তরে পাকিস্তান বাহিনীর পরাজয়ের পর লক্ষ লক্ষ অবাঙালী বিহারী ও ইসলামপন্থিদের উপর যে নিদারুন হত্যা,লুটতরাজ ও নির্যাতন নেমে আসে সেটি তো ইসলাম থেকে দূরে সরা সেক্যুলারিস্টদের হাতে বিজয় আসার পর।

যুগে যুগে মানুষের জানমালের বিপুল ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে প্রতিশোধের সে ধারাকে অব্যাহত রাখতে। ইসলামপূর্ব যুগে আরবের কাফেরগণ শত শত বছর ধরে চালু রাখতো প্রতিশোধের যুদ্ধ। নিজ গোত্রের একজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে যে যুদ্ধ শুরু হতো তা আর থামতো না,যুগ যুগ তা বেঁচে থাকতো। অসংখ্য গান, কবিতা ও কিচ্ছা লেখা হতো প্রতিশোধের সে স্পৃহাকে আরো তীব্রতর করতে। এমন সমাজে আপোষ ও শান্তি প্রতিষ্ঠার যে কোন উদ্যোগ গণ্য হতো ভীরুতা ও কাপুরষতা রূপে। একই কান্ড ঘটেছে ইউরোপে। ফ্রান্স ও ইংল্যান্ডের মধ্যে যুদ্ধ চলেছে শতবছর ধরে। ইউরোপের ইতিহাসে এ যুদ্ধটি শতবছরের যুদ্ধ রূপে পরিচিত।বাংলাদেশেও আজ  শুরু হয়েছে একই তাণ্ডব। খোদ একাত্তরে ইসলামপন্থিদের বিরুদ্ধে ভারতপন্থিদের শিবির থেকে যে ঘৃণা সৃষ্টি করা হয়েছিল এখন সে ঘৃনা আরো তীব্রতর। ফলে গৃহযুদ্ধের যে সম্ভাবনাটি তখন ছিল না,এখন সেটি প্রবল। ভারতপন্থিদের রাজনীতিতে এখন ইসলামপন্থিদের নির্মূলের সুর। একাত্তরে শেখ মুজিব ও তাঁর অনুসারিগণ ভারতীয়দের অস্ত্র নিয়ে বাংলাদেশে রক্তঝরানোর যে রাজনীতি শুরু করেছিলেন সেটি আর থামতে দেয়া হচ্ছে না। নর্দমার কীট যেমন আবর্জনায় বেঁচে থাকে, বাংলাদেশের সেক্যুলারিস্টগণও তেমনি বেঁচে আছে ঘৃণা ছড়ানোর এ সংস্কৃতি থেকে। তাদের মন যে কত বিষপূর্ণ সেটিই বেরিয়ে এসেছে ফেব্রেয়ারি মাসের গত ক’দিনে ঢাকার শাহবাগের চৌরাস্তার বক্তৃতা-বিবৃতি,ব্যানার,কার্টুন ও ছবি থেকে। সেটি আরো বুঝা যায় বিভিন্ন ওয়েবসাইট ও ব্লগে ইসলামের বিপক্ষ শক্তির লেখা থেকে।

বাংলাদেশের মানুষদের বিরুদ্ধে মুজিবের অপরাধ অনেক। তবেই এটিই হলো সবচেয়ে বড় অপরাধ। তিনি মরে গেছেন, কিন্তু উপহার দিয়ে গিয়েছেন রক্তপাতের আত্মঘাতি রাজনীতি। সে রাজনীতির মূল এজেণ্ড হলো, একাত্তরের ন্যায় বাংলার মাটিতে ভারতের অস্ত্র আবার গর্জে উঠুক এবং লক্ষ লক্ষ বাংলাদেশীর প্রাণ যাক। বাংলাদেশে মুজিব-অনুসারিদের রাজনীতির মূল সুরটি তাই রাজনৈতীক প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ এবং সে সাথে তাদের নির্মূল। তাই এবার ক্ষমতায় গিয়ে আওয়ামী লীগ নির্মূলে হাত দিয়েছে তাদের যারা একাত্তরে তাদের রাজনৈতীক প্রতিপক্ষ ছিল। তবে আওয়ামী লীগের নির্মূলের টার্গেট শুধু একাত্তরের পাকিস্তানপন্থিরা নয়। একাত্তরে পরে যারা তাদের রাজনৈতীক শত্রুতে পরিণত হয়েছে নির্মূল করতে চায় তাদেরও। কারণ আওয়ামী লীগের প্রতিপক্ষগণ যে শুধু একাত্তরে ছিল তা নয়। একাত্তরের ন্যায় তারা যেমন পঁচাত্তরে ও একানব্বইয়ে ছিল,তেমনি ২০০১য়েও ছিল। এবং আজও  আছে। তাদের প্রতিশোধের আঘাত থেকে কাউকে তারা ছাড় দিতে রাজী নয়। তাই শুধু জামায়াত বা মুসলিম লীগ নেতাগণ নয়ই, বিএনপি, হিজবুত তাহরির,ইসলামি ঐক্যজোটের নেতাগণও তাদের হামলা থেকে রেহাই পাচ্ছে না। 

বিপদ বাংলাদেশের

শেখ হাসিনার জীবনে শোকের দিন হলো ১৯৭৫যের ১৫ই আগষ্ট। সেদিন তিনি বহু আপনজনদের হারিয়েছেন। খুনের ঘটনা কোন জাতির জীবনেই নীরবে যায় না। সে স্মতি থেকে অনেক প্রতিশোধ-পরায়ন বহু হিংস্র মানুষের জন্ম হয়। বাংলাদেশেও সেটি হয়েছে।সেটি যেমন একাত্তরের খুন থেকে হয়েছে,তেমনি হয়েছে পরবর্তি আমলের খুন থেকেও। আজও  যে খুন গুলো হচ্ছে সেগুলো নীরবে হারিয়ে যাবে না।তাই যারা শান্তি চান,তাদের কাজ হয় যে কোন ভাবে দেশে রক্তপাত কমানো। শান্তি প্রতিষ্ঠায় এর চেয়ে বড় হাতিয়ার নাই। অথচ মানসিক অসুস্থ্যদের আচরণটিই ভিন্ন। চারিদিক শোক আর আহাজারি ছড়িয়ে তারা আনন্দ পেতে চায়। শেখ হাসিনাও আনন্দ পেতে চান,বাংলাদেশীদের জীবনে লাগাতর শোক সৃষ্টি করে। তাই তিনি এক লাশের বদলে দশটি লাশ ফেলতে বলেন। এভাবে তিনি পিতা-স্বামী-ভাই ও আপনজন কেড়ে নিচ্ছেন অসংখ্য মানুষের। একাজে মাঠে নামিয়েছেন দলীয়কর্মীদের পাশে পুলিশ ও র‌্যাব বাহিনীকে। ইলিয়াস আলী গুম হলো,সাগর-রুনি খুন হলো, বহু জামাত-শিবিরকর্মীগণ নিহত হলো তো সে পরিকল্পনার অংশরূপেই। অথচ তাঁর পিতার মৃত্যুর সাথে কোন রাজাকার জড়িত ছিল না,বরং জড়িত ছিল তার পিতার অনুসারি ও মুক্তিবাহিনীর সোনার ছেলেরা। তবে কোন উম্মাদিনীর টার্গেট হওয়ার জন্য কি কোন অপরাধ করার প্রয়োজন পড়ে? তার সামনে পড়াটাই অপরাধ। পাকিস্তান আর্মির লোকেরা আজ তারা সামনে নাই,তাই তারা টার্গেটও নয়। সামনে যেহেতু বিএনপি-জামায়াত-শিবির ও হিজবুত তাহরির,ফলে তারা নিস্তার পাচ্ছে না। যদিও শিবির কর্মীদের জন্ম শুধু একাত্তরের পরে নয়,পঁচাত্তরেরও বহু বছর পরে।

প্রতিশোধের রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় মেশিনারি

শেখ হাসিনা আজ ক্ষমতাসীন। ফলে তাঁর হুকুমের আঁওতায় বিশাল রাষ্ট্রীয় মেশিনারি। একারণে তাঁর প্রতিশোধের সামর্থও প্রচুর। ইসলামপন্থিদের নির্মূল ও শরিয়তের প্রতিষ্ঠা রুখতে আরব কাফের গোত্রদের চেয়ে তার সামর্থ অনেক বেশী। আরবের যুদ্ধ-পাগল গোত্রগুলোর কাছে ইসলামের নির্মূলে লক্ষাধিক পুলিশ ছিল না,বিশাল র‌্যাব-বাহিনী ছিল না,হাজার হাজার দলীয় কর্মীও ছিল না। তাদের হাতে বিশাল সামরিক বাহিনী বা বহুলক্ষ মানুষের অনুগত প্রশাসন ও কোর্টকাচারিও ছিল না।শেখ হাসিনার হাতে এর সব কিছুই রয়েছে। তাছাড়া তার পাশে রয়েছে সর্ববৃহৎ মুশরিক কবলিত দেশ ভারত। তবে যে নিরীহ ঈমানদারদের থেকে প্রতিশোধ নেয়া হচ্ছে তাদের আহত,ও ক্ষত-বিক্ষত করুণ মুখগুলোও ইতিহাসে নীরবে হারিয়ে যাবে না। প্রতিশোধমুখি বহুমানুষের জন্ম সে স্মৃতি থেকেও হবে। ফলে অনিবার্য হবে সংঘাত। এখানেই শেখ হাসিনা ও তার অনুসারিদের ভয়। তাই শেখ হাসিনাও বাংলাদেশকে আর নিরাপদ ভাবছেন না,নিজ পুত্র-কন্যাদের দেশে বাইরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রেখেছেন। গণদুষমন স্বৈরাচারিদের ন্যায় তিনিও তাই দেশের রাস্তাঘাট ঘন্টার পর ঘন্টা বন্ধ করে চলাফেরা করেন।

ট্রাইবাল রাজনীতি

দলটির লক্ষ্য গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা নয়। আওয়ামী লীগ ছুটছে আদিম ট্রাইবালিজমের দিকে। ট্রাইবালিজমে নেতা যোগ্যতার ভিত্তিতে নির্বাচিত হয় না। নির্বাচিত হয় রক্তের সূত্র ধরে। দলে মাঝে মধ্যে যে ভোট হয় সেটি নিছক ট্রাইবাল রীতির প্রতি আনুগত্য প্রকাশের স্বার্থে। ভোটাভুটি হলেও ট্রাইবাল নেতার নাবালুক শিশু বা পাগল পুত্রও কি কখনো পরাজিত হয়? তাই দলে শেখ হাসিনার কোন প্রতিদ্বন্দী নেই। নিছক ভোটাভুটির অর্থ তাই গণতন্ত্র নয়,বরং সেটি হলো নির্বাচনের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের নেতারূপে প্রতিষ্ঠার পদ্ধতি মাত্র। সে লক্ষ্যটি ব্যর্থ হলে,বুঝতে হবে দলে বা দেশে সেখানে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা পায়নি। এক্ষেত্রে আওয়ামী লীগে গণতন্ত্র কোথায়? দলটিকে নেতা খুঁজতে হয়েছে শেখ মুজিবের রক্তের সূত্র ধরে,যোগ্যতা বিবেচনায় আসেনি। দলে জুড়ে এমন এক ট্রাইবাল সংস্কৃতির কারণেই শেখ হাসিনার যোগ্যতা নিয়ে নেতাকর্মীদের মনে প্রশ্ন উঠেনি,প্রশ্ন উঠেনি তার রাজনৈতীক অভিজ্ঞতা নিয়েও। এখানে একমাত্র প্রয়োজন ছিল শেখ মুজিবের সন্তান হওয়ার। সেটি পূরণ হওয়াতেই তিনি আজ  আওয়ামী লীগের নেত্রী।

শেখ হাসিনার রাজনীতির মূল লক্ষ্যটি দেশগড়া বা দেশে শান্তি আনা নয়,বরং নিজের পিতামাতা,ভাইভাবী ও পরিবারের অন্যদের হত্যার প্রতিশোধ নেয়া। সে প্রতিশোধটি রক্তাত্ব ভাবে নিতেই দেশের প্রশাসন,পুলিশ,র‌্যাব,আদালতের বিচারকদের হাতিয়ার রূপে ব্যবহার করা হচ্ছে। দেশে একাত্তরে যেমন মানুষ খুন,ধর্ষণ,লুটতরাজ হয়েছিল,আজও  সেগুলি হচ্ছে। বরং বেশী বেশী হচ্ছে। একাত্তরের খুনকে মানবতাবিরোধী বলে সেগুলির বিচারের নামে বহু নিরপরাধ মানুষকে কারাগারে তুলে তাদের শাস্তি দেয়া হচ্ছে। কারণ তারা শেখ হাসিনার রাজনৈতীক প্রতিপক্ষ। কিন্তু আজকের খুন ও ধর্ষণ মানবতাবিরোধী গণ্য হচ্ছে না,সে অপরাধের বিরুদ্ধে বিচারও বসছে না। কারণ তারা শেখ হাসিনার রাজনৈতীক প্রতিপক্ষ নয়। অনেক খুনি তো আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী। ফলে তাদের বিরুদ্ধে বিচারে শেখ হাসিনার আ্গ্রহ নেই। বরং বহু সাজাপ্রাপ্ত খুনিকে তিনি তার আজ্ঞাবহ দলীয় প্রেসিডেন্টকে দিয়ে দণ্ড মওকুফের ব্যবস্থা করেছেন। ফলে সেসব খুনিরা পুণরায় ফিরে গেছে দলের ক্যাডার বাহিনীতে।

প্রতিশোধের খড়গ জনগণের বিরুদ্ধে

শেখ হাসিনার কাছে অপরাধী কি শুধু সামরিক অফিসারগণ যারা তার পিতামাতা ও আপনজনদের হত্যা করেছিল? আক্রোশ কি শুধু তাদের বিরুদ্ধে যারা সেদিন খুশিতে ঢাকার রাস্তায় আনন্দ-মিছিল করেছিল এবং মিষ্টি বিতরন করেছিল? বরং অপরাধী তো সে জনগণও যারা সেদিন তারা সে হত্যার বিরুদ্ধে রাস্তায় নেমে প্রতিবাদ মিছিল করেনি। অপরাধী কি শুধু আওয়ামী বিরোধী সে সব রাজনৈতীক দল যাদেরকে শেখ মুজিব তার বাকশালী স্বৈরাচরি শাসনের আওতায় নিষিদ্ধ করেছিলেন? বরং অপরাধী তো সেসব আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দও যারা শেখ মুজিবের মৃত্যূতে আব্দুল মালেক উকিলের মত মহাখুশিতে বলেছিলেন,“ফিরাউনের মৃত্যু হয়েছে।” শেখ হাসিনার ক্ষোভ,আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীগণ সে আব্দুল মালেক উকিলকে দলের সভাপতির পদে বসিয়েছিল। শেখ হাসিনার ক্ষোভ তো আওয়ামী লীগের সেসব নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধেও যারা তাঁর পিতার রক্তঝরা লাশকে সিঁড়ির উপর ফেলে খোন্দকার মোশতাকের মন্ত্রীসভায় যোগ দিয়ে শপথ বাক্য পাঠ করেছিলেন। শেখ হাসিনার প্রত্যাশা,সমগ্র জাতি তাঁর পিতাকে জাতির পিতা মেনে নিয়ে তার প্রতি সর্বাধিক সম্মান দেখাবে। বাংলাদেশের ভূমিতে অন্য কোন ব্যক্তি তাঁর পিতার চেয়ে বেশী সম্মান পাক সেটি হাসিনার কাম্য নয়। অথচ সে সম্মান ও স্বীকৃতি শেখ মুজিবের জুটেনি। জনগণের বিরুদ্ধে শেখ মুজিবকে রক্ষিবাহিনী নিয়ে নামতে হয়েছে। সম্মান না দেখিয়ে বামপন্থি ও জাসদ নেতাগণ তার পিতার জীবদ্দশাতেই তার পিঠের চামড়া দিয়ে ঢোল বানাতে চেয়েছিল। এমন অপমানজনক কথা কি আইয়ুব খান,ইয়াহিয়া খানকেও শুনতে হয়েছিল?

পাকিস্তানের ধ্বংসের জন্য বছরের পর বছর কাজ করেছেন শেখ মুজিব।ভারতের চর রূপে আগরতলা ষড়যন্ত্রও করেছেন। অথচ পাকিস্তান আর্মি মুজিবের গায়ে কি একটি আঁচড়ও দিয়েছে? আঁচড় দিয়েছে কি মুজিব পরিবারের অন্য কোন সদস্যের বিরুদ্ধে? বরং একাত্তরের যুদ্ধকালীন ৯ মাস কালে মুজিব পরিবার ও গর্ভাবতী শেখ হাসিনা পাকিস্তান আর্মি থেকে সেবা পেয়েছেন।অথচ সে মুজিবকে নিহত হতে হলো বাঙালীদের হাতে? হাসিনার অভিযোগ,মুজিব ডিঙ্গিয়ে অনেকে মাথায় তুলেছে ভাষানীকে। কেউবা মাথায় তুলেছে প্রফেসর ইউনুসকে। তার পিতার হত্যাদিবস ১৫ই আগষ্টের দিনে বহুমানুষ বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়ার জন্ম দিবস রূপে উৎসব করে। শেখ হাসিনার কাছে এসব কি সহ্য করার মতো? এতে প্রচণ্ড ক্রোধ জেগেছে জনগণের বিরুদ্ধেও। ফলে প্রতিশোধ নিচ্ছেন তাদের থেকেও। হাসিনার কাছে একমাত্র আপনজন হলো দিল্লীর শাসকচত্রু। মুজিবের মৃত্যুর পর তিনি প্রতিপালন পেয়েছেন একমাত্র দিল্লিতেই;বাংলাদেশে যেমন নয়,পৃথিবীর অন্য কোন দেশেও নয়। ফলে তাঁর রাজনীতির মূল চরিত্রটি তখন থেকেই নির্ধারিত হয়ে গেছে। সেটি যেমন ইসলামপন্থি-নির্মূল,তেমনি ভারতের প্রতি নিমক হালালীর। বরং এক ও অভিন্ন ইসলাম বিরোধী রাজনীতির এ হলো দুটি ধারা।

যে হীংস্রতা পশুকেও হার মানায়

প্রতিশোধের নেশা মানুষকে পশুর চেয়েও হিংস্র করে। মানব ইতিহাসে সবচেয়ে বেশী রক্ত ঝরেছে প্রতিশোধ-পরায়ন মানুষদের হাতে। প্রতিশোধ-পরায়ন মানুষের কাছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে খুন,ধর্ষণ,লুটতরাজ ও অগ্নিসংযোগের ন্যায় নিষ্ঠুরতাও তখন উৎসব রূপে গণ্য হয়। প্রতিশোধের নেশাতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাপানের উপর দুটি আনবিক বোমা ফেলেছিল। সম্প্রতি ধ্বংস করেছে আফগানিস্তান ও ইরাকের বহু জনপদ। এমন প্রতিশোধ স্পৃহা নিয়ে ইরাকে তারা বন্দিদের উলঙ্গ করে তাদের দিয়ে পিরামিড গড়েছে। ভারত একই কারণে হত্যা ও ধর্ষণে নেমেছে কাশ্মীরে।একই রূপ প্রতিশোধ-পরায়ন হিংস্রতা নেমে শেখ হাসিনা ও তার অনুসারিগণ নেমেছেন বাংলাদেশের রাজনীতিতে। ফলে দেশের রাজনীতিতে এখন নির্মূলের ধ্বনি। বস্তুত একাত্তর থেকেই শুরু হয়েছে প্রতিশোধের এ রাজনীতি। সে আগুণ আর থামানো হয়নি। একাত্তরের নয় মাসে বহু বাঙালী ও বহু অবাঙালী হিংস্রতার শিকার হয়েছে। একাত্তরের পর সে আগুনে বহুলক্ষ বিহারী ঘরবাড়ি,দোকানপাঠ হারিয়ে নিঃস্ব হয়েছে। বহু বিহারী রমনি ধর্ষিতাও হয়েছে। এখন বাঙালী-অবাঙালী সংঘাত শেষ হয়েছে। কিন্তু আত্মঘাতি সংঘাত শুরু হয়েছে বাঙালীদের মাঝে। শেখ মুজিব একাত্তরে কারারুদ্ধ হলেও নিজের বাপ-মা হারাননি,ভাইবোনও হারাননি। ফলে তার উম্মাদনাটি শেখ হাসিনার মত এতটা প্রকট ছিল না। ফলে একাত্তরে যারা পাকিস্তানের পক্ষ নিয়েছিল তাদেরকে ফাঁসিতে ঝুলানোর কোন উদ্যোগ নেননি। কিন্তু শেখ হাসিনা তাদের ফাঁসিতে ঝুলাতে চান।

প্রতিটি সংসদীয় নির্বাচনে যে সত্যটি প্রকাশ পায় তা হলো,আওয়ামী লীগের প্রাপ্তভোটের পরিমাণ দেশের মোট ভোটারদের এক-তৃতীয়াংশের বেশী নয়। অর্থাৎ দেশের সংখ্যাগরিষ্ট জনগণ আওয়ামী লীগের সাথে নাই। শেখ হাসিনার ক্ষোভ কি তাতে কম? যে দেশের প্রতিষ্ঠায় নেতৃত্ব দিল তার পিতা শেখ মুজিব ও তাঁর দল আওয়ামী লীগ -তার বিরুদ্ধে জনগণের এমন অবস্থান কি হাসিনার কাছে সহনীয়? হাসিনার কাছে তা গণ্য হচ্ছে তার পিতার বিরুদ্ধে গাদ্দারি রূপে। ফলে জনগণের বিরুদ্ধে প্রতিশোধে তিনি খড়গহস্ত হবেন সেটিই কি স্বাভাবিক নয়? এবং হচ্ছেও তো সেটিই। দেশের মানুষ আজ পথে ঘাটে লাশ হচ্ছে,নারীরা ধর্ষিতা হচ্ছে,মানুষ গুম হচ্ছে -শেখ হাসিনার তাতে ভ্রুক্ষেপ নাই। অপরাধীদের ধরা নিয়েও তার কোন আগ্রহ নাই। বরং সমগ্র সামর্থ দিয়ে পুলিশ ও র‌্যাব নামিয়েছেন তাদের শাস্তি দিতে -যারা তার রাজনীতির বিরোধী।

হাসীনার স্যাডিজম

প্রতিশোধ পরায়ন মানুষের বড় মানসিক অসুস্থ্যতাটি হলো স্যাডিজম। স্যাডিস্টগণ অন্যের দুঃখ-বেদনায় মহা তৃপ্তি পায়। প্রচুর আনন্দ পান পথে ঘাটে মানুষের লাশ হওয়াতেও। রাজনীতি তাদের কাছে তখন লাশের রাজনীতিতে পরিণত হয়। এমন স্যাডিজম কাজ করে অপরাধ জগতের দস্যু-ডাকাতদের মাঝে। তারা নিরীহ গৃহস্বামীকে হত্যা করে অট্ট হাঁসি দেয়। আওয়ামী লীগ এমন অপরাধীদেরই রাজনীতিতে টেনে এনেছে। তিনি চান আরো বেশী বেশী লাশ পড়ুক। শেখ হাসিনা নিজেও যে এমন মানসিক অসুস্থ্যতায় আক্রান্ত সে প্রমাণ কি কম? তিনি অতীতে নিজ দলীয় কর্মীদের প্রতি একটি লাশের বদলে দশটি লাশ ফেলার নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে বাংলাদেশে আজ  তার ক্ষমতায় আসাতে পথেঘাটে লাশের ছড়াছড়ি। লাশ পড়ছে সরকারি বাহিনীর হাতে। গত ৩১/১/১৩ তারিখে দৈনিক যুগান্তর খবর ছেপেছে,“ঢাকার আশেপাশে নির্জন এলাকায় লাশ আর লাশ। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে সাদা পোষাক ও সাদা গাড়ির সাহায্যে অসংখ্য মানুষ গুম হচ্ছে,ঘর থেকে তুলে নেয়ার পর তারা আর ফিরে আসে না। লাশ হয়ে রাতের আঁধারে তারা ডাম্পিং হচ্ছে এবং পচে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে্ ঢাকার আশের পাশে মুন্সিগঞ্জের ধলেশ্বরী,মেঘনা ও পদ্মার নির্জন তীরে,মাওয়া সড়কের পাড়ে,নারয়নগঞ্জের সীতালক্ষার তীরে অথবা কাপাসীয়ার গজারী শালবনে।পত্রিকাটি লিখছে একমাত্র গত জানুয়ারি মাসেই এসব এলাকারয় অর্ধশত লাশ পাওয়া গেছে। লাশ পড়ছে প্রতিদিন। দৈনিক যুগান্তর লিখেছে, নারায়নগঞ্জে এক ডজন খুন হলো সম্প্রতি। সরকার মূলা ঝুলিয়েছে এ বলে যে বিচার হবে। কিন্তু সরকারের ভূমিকা যেন এ পর্যন্তই। কোন তদন্তু নাই, কোন মামলা নেই, কোন গ্রেফতারিও নাই,এবং কোন বিচারও নাই।

শুধু গাজীপুরেই গত জানুয়ারিতে ৮ জন খুন হয়েছে। আশুলিয়াতেই খুন হয়েছে ৫ জন। প্রশ্ন হলো,একাত্তরের খুনের চেয়ে আজকের এ খুনগুলো কি কম নৃশংস? যারা খুন হলো তাদের পরিবারের কি সরকারের কাছে চাও্য়া পাওয়া নেই? সরকারের কাজ কি শুধু শেখ হাসিনার পিতামাতার হত্যাকারিদের বিচার করা? এ অপরাধগুলি কি মানবাধিকার বিরোধী নয়? খুন শুধু একাত্তরে হলেই অপরাধ,এবং সে অপরাধের বিচারের নামের কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে ট্রাইবিউনাল গঠিত হবে,অথচ বাহাত্তরে,তেহাত্তরে,চুহাত্তরে বা তার পরে কেউ খুন হলে তার বিচার হবে না -সেটি কি কোন সভ্য সমাজে গ্রহণযোগ্য?

 বিচারের নামে প্রতিপক্ষ নির্মূল

জামায়াত নেতাদের ফাঁসীর দাবী নিয়ে আওয়ামী লীগের নেতা­­­কর্মী ও মন্ত্রীরা এখন রাজপথে নেমে এসেছে। আব্দুল কাদের মোল্লাকে আদালত যাবজ্জীবন কারাদন্ডের শাস্তি দিয়েছে। এ রায়ে তারা খুশি নয় তাদের দাবী,আদালতকে সে রায়ই দিতে হবে যা তারা রাজ পথে দাবী করছে। বিচারের দায়িত্ব এখন আর তাই বিচারকদের হাতে নেই। বিচারকদের সে অধিকার ছিনতাই হয়েছে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের হাতে।এই হলো শেখ হাসিনা সরকারের বিচার ব্যবস্থা।

সরকারের লক্ষ্য খুনের বিচার নয়,বরং বিচারের নামে রাজনৈতীক বিরোধীদের নির্মূল করা। জামায়াত নেতাদের বড় অপরাধ,তারা বর্তমান সরকারের রাজনৈতীক শত্রু। ফলে তারা সরকারের নির্মূলের টার্গেটও। দেশের পুলিশ এবং আদালত একাজে সরকারের লাঠিয়াল রূপে। লাঠিয়ালের কাজ,নেতার খায়েশ পুরণে কারো মাথায় লাঠি মারা। কার মাথায় মারতে হবে সে ইচ্ছাটি লাঠিয়ালের নিজের নয়। সে লক্ষ্যে থানা-পুলিশ ও সরকারি প্রসিকিউশনের উকিলের কাজ হয়েছে রাজনৈতীক শত্রুদের বেছে বেছে কোর্টে হাজির করা। একাত্তরে খুন,ধর্ষণ ও লুটতরাজের মিথ্যা অভিযোগে জেলে তুলে তাদের ফাঁসি দেয়াই সরকার ও তার নিয়ন্ত্রিত বিচার বিভাগের মূল কাজ।

বিচার এখন আর আদালতের বিচারের বিষয় নয়,সেটি রাজপথে দাবী করে আদায়ের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। কোন সভ্যদেশে কি এমন হয়? এখানেও কাজ করছে মানসিক ভারসাম্যহীন শেখ হাসিনার চরম প্রতিশোধ পরায়নতা। কাজ করছে তার উগ্র ট্রাইবালিজম। ট্রাইবাল নেতারা কখনই নিজ গোত্রের খুনি সন্ত্রাসী, লুটেরা বা ধর্ষকদের বিচার করে না। অথচ অন্য গোত্রের নিরপরাধ মানুষের লুন্ঠন,হত্যা বা ধর্ষণ করতে পেরে উৎসব করে। শেখ হাসিনার প্রথম বার ক্ষমতায় আসাতে তাই জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয়ে তার দলের ছাত্রলীগ নেতা যখন ধর্ষণে সেঞ্চুরীর উৎসব করে তখন সেটি অপরাধ রূপে গণ্য হয়নি, এবং তার বিচারও হয়নি।বরং সে অপরাধীরা তার কাছে অতি প্রিয় গণ্য হয়েছে। নিজ দলের এসব অপরাধীদের গায়ে কেউ আঁচড় দিক শেখ হাসিনার কাছে সেটি গ্রহনযোগ্য নয়। দুর্নীতির কারণে পদ্মসেতুর ন্যায় একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প বাস্তবায়ীত হতে পারলো না। দূর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত দুই সাবেক মন্ত্রী আবুল হোসেন ও আবুল হাসান যেহেতু তার দলের তাই তাদের বাঁচাতে বিশ্বব্যাংকের তদন্তের দাবীকে অগ্রাহ্য করলো। অথচ বিশ্বব্যাংক তাদের বিচার বাংলাদেশের মাটিতে বাংলাদেশের বিচারকদের দিয়েই চেয়েছিল। শেখ হাসিনার কাছে তার দল বা গোত্রটি বড়,দেশ নয়। তাই পদ্মা সেতু না হওয়াতে দেশের ক্ষতি হলেও তার দলের ক্ষতি হয়নি। বরং দলের দুই নেতা বিচারের দণ্ড থেকে বেঁচে গেল।

পিতার পথে শেখ হাসিনা

এককালে রাজারা নিজ ভাই ও নিজ পুত্রদের নিয়ে যুদ্ধে যেত। প্রতিপক্ষের হাতে তাদের অনেকে মারাও যেত। নিহত রাজার পুত্ররা যখন রাজা হত তখন াভরাজসে রাষ্ট্র্ তার সমগ্র সামর্থ নিয়ে নিয়োজিত হতো শত্রুদেশের বিরুদ্ধে প্রতিশোধকামী অন্তহীন এক যুদ্ধে। একই কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শুরুর বীজ রয়ে গিয়েছিল প্রথম বিশ্বযুদ্ধে। প্রথম বিশ্ব যুদ্ধে পরাজিত জার্মান জনগণকে অপমানিত করার সকল প্রকার উদ্যোগ নিয়েছিল বিজয়ী ফ্রান্স ও ব্রিটেন। কিন্তু তাতে পরবর্তীতে ফলাফলটি ফ্রান্স ও ব্রিটেনে জন্যও ভাল হয়নি। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে তাদের লক্ষ লক্ষ নাগরিক মারা গেছে হিটলারে বোমায়। ধ্বংস ও বিরান হয়েছে তাদের নগরগুলি। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষে বিজয়ী পক্ষ আর পূর্বের ন্যায় প্রতিশোধে নামেনি। তারা পরাজিত প্রতিপক্ষের অপরাধ নিয়ে বেশী শাস্তি দিতে যায়নি। যুদ্ধে যা ঘটেছে সেটিকে পিছনে ফেলে তারা সামনে এগুতে চেয়েছে। ফলে হাজার হাজার সামরিক অফিসার ও তাদের লক্ষ লক্ষ সৈন্যের মাঝে মাত্র হাতে গুণা কয়েকজনকে মাত্র নুরেমবার্গের ট্রাইবুনালে তুলেছিল। বরং পরাজিতে দেশের নির্মাণে তারা এগিয়ে এসেছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তখন পরাজিত শত্রু জার্মান ও জাপানের ধ্বংসপ্রাপ্ত ঘরবাড়ী,শিল্পকারখানা ও রাস্তাঘাট মেরামত করে দেয়ার জন্য বিপুল অর্থ সাহায্য দেয়। এতে ফলটি শুভ হয়। বহু মিলিয়ন লোকের মৃত্যূ ও নগর-বন্দরের এতবড় ধ্বংসযজ্ঞের পরও জার্মান ও জাপানের জনগণ মার্কিনীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধে নামেনি। পাশ্চাত্য যুদ্ধ থেকে মুক্তি পায় তো এভাবেই। বরং দেশ দুটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ট সামরিক ও রাজনৈতীক মিত্রে পরিণত হয়। কিন্তু সে প্রজ্ঞা কি প্রতিশোধ পরায়ন আওয়ামী লীগের বর্তমান নেতাদের থেকে আশা করা যায়?

একাত্তরে উভয় পক্ষে বহু হাজার মানুষ হতাহত হয়েছে। উভয়ের পক্ষের বহু লক্ষ মানুষের গায়ে এখনও তাজা জখম। আওয়ামী লীগের কাজ হয়েছে সে জখমে মরিচ লাগানা। পাশ্চাত্য বিশ্ব প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর যেরূপ জখমে মরিচ লাগিয়ে ভয়ানক দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ডেকে এনেছিল, আওয়ামী লীগ তেমনি একাত্তরের ক্ষতে মরিচ লাগিয়ে দেশে বিভক্তি ও রক্তপাত বাড়াতে চায়।তারা ভাবছে যুদ্ধে শুধু একপক্ষেই লাশ পড়ে, এবং তাদের বিরোধী পক্ষে। শেখ হাসিনা তার পরিবারের বিয়োগান্ত পরিণতি থেকে কোন শিক্ষাই নেননি। তার পরিবার একাত্তরে বাঁচলেও পঁচাত্তরে রেহাই পায়নি।শেখ মুজিবের সবচেয়ে বড় অপরাধ ছিল তিনি অন্যদের রাজনীতি নির্মূল করতে চেয়েছিলেন। অনেকের বেঁচে থাকাকেও অসম্ভব করেছিলেন। বাকশালী স্বৈরাচারের মূল লক্ষ্যই ছিল সেটি। শেখ হাসিনাও তার পিতার পথ ধরেছেন। তিনিও অন্যদের রাজনীতিই শুধু নয়,তাদের বেঁচে থাকাটিও অসম্ভব করতে চাচ্ছেন। এরূপ নীতি যেমন হিটলারের জন্য কোন কল্যাণ আনেনি, তাঁর পিতার জন্যও কল্যাণ আনেনি।

ভারতীয় এজেণ্ডা ও হাসিনার উপর দায়ভার

কোন দেশ বা সাম্রাজ্য ভূমিকম্প,সুনামী বা মহামারিতে ধ্বংস হয় না। বরং ধ্বংস হয় আভ্যন্তরীণ রাজনৈতীক সংঘাতে। বাংলাদেশ বিপদে পড়েছে রাজনীতির ময়দানে চলমান সংঘাতের কারণে। বাংলাদেশের শত্রুপক্ষ তো সেটিই চায়।ভারত চায় বাংলাদেশ দ্রুত একটি ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হোক। মুজিব ভারতের সে লক্ষ্যে পূরণে বহুদূর এগিয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। দেশের অর্থনৈতীক মেরুদ্ণ্ডকে তিনি গুড়িয়ে দিয়ে ভিক্ষার ঝুলিতে পরিণত করেছিলেন। তার অবসানে দেশ সে যাত্রায় বেঁচে যায়। কিন্তু ভারত তার লক্ষ্য থেকে বিচ্যুৎ হয়নি। দেশধ্বংসী সংঘাতকে আরো তীব্রতর করার দায়ভার চাপিয়েছে এবার হাসিনার উপর। সে লক্ষ্যেই মুজিবের মৃত্যুর পর ভারতের রাজধানীতে প্রতিপালিত শেখ হাসিনাকে পুনর্বাসিত করা হয়েছে বাংলাদেশের রাজনীতিতে।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে শেখ হাসিনাই হলো সবচেয়ে প্রতিশোধ পরায়ন। আওয়ামী লীগে শেখ হাসীনার চেয়ে বহু অভিজ্ঞ লোক ছিল,কিন্তু তাদের মাঝে শেখ হাসিনার ন্যায় এতো প্রতিশোধ পরায়নতা ছিল না। ফলে তাদের দ্বারা বাংলাদেশের রাজনীতি অন্তহীন সংঘাত জন্ম দেয়াও সম্ভব ছিল না। ভারত সেটি জানতো। রাজনৈতীক সংঘাতের কারণে দেশের অর্থনীতি বা রাজনীতিই শুধু বিপদে পড়ে না,দেশ তখন ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত হয়। ভারত তাই চলমান সংঘাতকে তীব্রতর করতে চায়। বাংলাদেশকে ব্যর্থরাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্যে হাসিনাই হলো ভারতের জন্য ব্যবহার যোগ্য সবচেয়ে মোক্ষম হাতিয়ার। ভারতীয় লবির লোকদের মাধ্যমে ভারত তাই শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগের নেত্রী রূপে বসায় এবং দলকে রাজনৈতীক ময়দানে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য বিপুল অর্থবিনিয়োগ তো এজন্যই। সম্প্রতি লন্ডনের প্রখ্যাত ইকোনমিস্ট পত্রিকা তো ভারতীয় সে বিনিয়োগের বিবরণও পেশ করেছে।

শেখ হাসিনা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। কোন দেশে কোন ব্যক্তি যখন এ পর্যায়ে পৌঁছেন তখন তিনিই সে দেশের সবচেয়ে ভাগ্যবান ব্যক্তি। যে কোন ব্যক্তির এটিই সবচেয়ে বড় পাওয়া। এমন পাওয়ার পর তিনি দেশকে কিছু দিতে স্বয়ং নিজে ও পরিবারের অন্যদের নিয়ে ময়দানে নামবেন সেটিই স্বাভাবিক। নিজ যোগ্যতা বলে কিছু দেয়ার সামর্থ থাকলে সেটি তারা দিবেন নিজ দেশকে,বিদেশকে নয়। তাই কোন দেশের শাসক তার পুত্রকণ্যাদের বিদেশে স্থায়ীভাবে বসবাসে বা ব্যাবসা-বাণিজ্য করতে পাঠিয়েছে তার নজির নেই। কোন ব্যক্তিকে দেশবাসী যখন এতবড় বিশাল মর্যাদা দেয় তখন জনগণের প্রতি তাঁর নিজের ও পরিবারের দায়িত্বও বাড়ে। অথচ শেখ হাসিনা তাঁর পুত্রকণ্যাকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠিয়েছেন। বোন ও বোনের পরিবারকে পাঠিয়েছেন বিলেতে। তার পুত্রের লেখাপড়া শেষ হয়েছে বহু আগে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এখন তিনি ব্যবসা শুরু করেছেন।

নিজ দেশ ছেড়ে বিদেশে তো তারাই পাড়ি দেয় যারা দেশে সুবিধা করতে পারে না। কিন্তু বাংলাদেশে তিনি ও তার পরিবাবের চেয়ে আর কে ভাল অবস্থায় আছে? তবে কি তার নিজের মনেও বাংলাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে সংশয় আছে যে নিজ আপনজনদের বিদেশে পাঠিয়েছেন? তবে প্রশ্ন আরো রয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণের বিরুদ্ধে যিনি প্রতিশোধে নামেন তিনি সে জনগণকে নিজের বন্ধুই বা ভাববেন কেমনে? সে দেশে তার আপনজনদের রাখতে ভয় পাবেন সেটিই কি স্বাভাবিক নয়? বাংলাদেশের জনগণ থেকে তিনি যে কতদূরে এর পরও কি সেটি বুঝতে বাঁকি থাকে? এমন ব্যক্তি কি বাংলাদেশের স্বাধীনতার বন্ধু হতে পারে? আর এতে বাংলাদেশের বিপদই কি কম?